রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে জনবল নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে করা আরও দুটি মামলায় রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের বরখাস্ত হওয়া মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ইউসুফ আলী মৃধাসহ আটজনের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আতাউর রহমানের আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই বিচারকাজ শুরু হয়। আদালত আগামী ৬ ও ৭ আগস্ট সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য করেছেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মাহমুদুল হক জানান, টিকিট ইস্যুকার পদে মৃধা ও রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের সাবেক সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া, অতিরিক্ত প্রধান যন্ত্রকৌশলী হাফিজুর রহমান ও ঘুষ দিয়ে অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া প্রার্থী শাহীন শাহের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। একইভাবে টুলকিপার পদে নিয়োগ নিয়ে করা দুর্নীতির মামলায় মৃধা, কিবরিয়া, হাফিজুল এবং ঘুষ দিয়ে নিয়োগ পাওয়া প্রার্থী এস এম আজিজুল হক, সাইদুর রহমান, রবিউল হাসান ও আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী আসামিদের নির্দোষ দাবি করে অব্যাহতির আবেদন করেন। কিন্তু আদালত তা নাকচ করে দেন।
রেলওয়ের টুলকিপার ও টিকিট ইস্যুকার পদে নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের ঢাকার প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুর রেজা ২০১২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় এ দুটি মামলা করেন। গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর তিনি মামলা দুটির অভিযোগপত্র জমা দেন। মৃধার বিরুদ্ধে রেলের নিয়োগ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে ১৪টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০১০ সালের ২৮ অক্টোবর রেলের টুলকিপার পদে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। ২০১১ সালের এপ্রিলে নিয়োগের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা হয়।
চাকরিপ্রার্থী এস এম আজিজুল হক ৬০ নম্বরের পরীক্ষায় ১৭ পেয়ে অকৃতকার্য হলেও নম্বর বাড়িয়ে ৩২, এ এস এম সাইদুর রহমানের নম্বর সাড়ে ২৬ থেকে বাড়িয়ে ৩১, রবিউল হাসানের ১৮ থেকে বাড়িয়ে ৩০ এবং আশরাফুল ইসলামের সাড়ে ৯ থেকে বাড়িয়ে ৩০ করে তাঁদের কৃতকার্য দেখানো হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়, তদন্তে দেখা যায় ইউসুফ আলী মৃধা, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান যন্ত্রকৌশলী হাফিজুর রহমান চৌধুরী ও সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া ক্ষমতার অপব্যবহার করে লিখিত পরীক্ষার খাতা ঘষামাজা করে অকৃতকার্য ওই চার প্রার্থীকে কৃতকার্য দেখান।
রেলের টিকিট ইস্যুকার পদে লিখিত পরীক্ষায় প্রার্থী শাহীন শাহ ২৬ নম্বর পেলেও ইউসুফ মৃধা, রেল কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান ও গোলাম কিবরিয়া খাতা ঘষামাজা করে তাঁর নম্বর ৩০ দেখান। তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় মৃধাসহ রেলের তিন কর্মকর্তা ও প্রার্থী শাহীন শাহের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। ২০১২ সালের ৯ এপ্রিল তত্কালীন রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের বাসায় যাওয়ার পথে টাকার বস্তাসহ আটক হন ইউসুফ মৃধা।




