ষ্টাফ রিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)
বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার ভারত যাওয়া হচ্ছে না। তিনি যোগ দিচ্ছেন না ভারতের নতুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শপথ অনুষ্ঠানে। গত ক’দিন ধরে বিভিন্ন মিডিয়ায় খালেদা জিয়া দিল্লি যাচ্ছেন বলে যে খবর দেওয়া হচ্ছে তার সঙ্গে বাস্তবের মিল পাওয়া যায়নি। সংবাদপত্রগুলোর কেউ লিখেছে আমন্ত্রণ পেয়েছেন, কেউ লিখেছে পাচ্ছেন, কেউ লিখেছে যেতে পারেন, কেউ লিখেছে যাচ্ছেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে নরেন্দ্র মোদীর শপথ অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ পৌঁছেনি খালেদা জিয়ার কাছে।
নরেন্দ্র মোদীর শপথে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে সার্ক দেশগুলোর সরকার প্রধানদের। তাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও আমন্ত্রিত। তিনি অবশ্য এই শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারছেন না। এরই মধ্যে চার দিনের পূর্ব নির্ধারিত সফরে জাপান পৌঁছে গেছেন শেখ হাসিনা।
এদিকে, বিএনপির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, তাদের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়া যাতে মোদীর শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পান এবং তাতে তিনি যোগ দিতে পারেন সে চেষ্টা গোড়া থেকেই চলছিলো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটা সম্ভব হয়নি। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে সাড়া পাওয়া যায়নি। খালেদা জিয়াকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে মর্মে সংবাদপত্রে খবর ছাপা হওয়া প্রসঙ্গে বিএনপি’র সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সংশ্লিষ্ট একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে বিএনপি অফিসে কথা হয়েছে। তবে তারা কোনো আমন্ত্রণের বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানেন না।
এ ব্যাপারে চেষ্টা করা হয়েছিলো, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমন্ত্রণ এসে পৌঁছেনি বলেই জানায় ওই সূত্রটি। এদিকে ভারতীয় হাইকমিশন সূত্রও জানাচ্ছে খালেদা জিয়ার জন্য কোনো নিমন্ত্রণ তাদের মাধ্যমে আসেনি। মোদী প্রধানমন্ত্রী পদে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই বিএনপি’র পক্ষ থেকে আগ্রহের বিষয়টি স্পষ্ট। নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন সকাল ১১টার দিকে মোদীকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন খালেদা জিয়া।
এরপর থেকে বারবারই একটি কথা সামনে আসছিলো মোদীর শপথ অনুষ্ঠানে দাওয়াত পাচ্ছেন খালেদা জিয়া। এবং সে অনুষ্ঠানে অংশও নেবেন তিনি। মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে খালেদা জিয়ার মেসিন রিড্যাবল পাসপোর্ট করার ঘটনায় অনেকেই সহজ সমীকরণও করেছেন, তারা বলেছেন ভারত যেতেই তড়িঘড়ি করে খালেদা জিয়ার এই পাসপোর্ট তৈরি।
খালেদা জিয়া বা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই শপথে যোগ না দিলেও জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন এই অনুষ্ঠানে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফেরও এই অনুষ্ঠানে যোগ দেবার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাহিন্দ রাজাপাক্ষে, বিরোধী দলীয় নেতা রনিল বিক্রমাসিংহে, আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, নেপালের প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালা এবং মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিন আবদুল গাইয়ুম শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলে নিশ্চিত করেছেন।




