ষ্টাফ রিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)
অপহরণের পর হত্যাকাণ্ডে নিহতদের স্বজনদের সমবেদনা জানাতে নারায়ণগঞ্জে পৌঁছেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে তার গাড়িবহর নারায়ণগঞ্জে এসে পৌঁছায়। এরপর সোয়া ১২টার দিকে অপহরণের পর নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের বাড়িতে যান। সেখানে নজরুলের পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও নিহত আরো পাঁচ পরিবারের লোকজন রয়েছেন।
তাদের প্রতি সান্ত্বনা দিয়ে বিএনপি প্রধান বলেন, আমরা আপনার পাশে আছি। পাশে থাকবো। বিএনপি সবসময় আপনাদের সঙ্গে থাকবে। এরপর সেখান থেকে জেলার জালকুড়ি এলাকায় একই ঘটনায় নিহত অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারের বাসার দিকে রওয়ানা দেবেন খালেদা। এদিকে খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরকে শুভেচ্ছা জানাতে পথে পথে ভিড় করেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। সারিবদ্ধভাবে সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছা জানান তারা। খালেদা জিয়াও তাদের শুভেচ্ছার উত্তর দেন।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গাড়ি বহর দলীয় কার্যালয় নয়াপল্টন দিয়ে যাওয়ার সময় হাজারো নেতাকর্মী সেখানে জড়ো হন। এ সময় তার গাড়ি বহর ধীর গতিতে চলে। বিএনপি প্রধানও নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানান। এদিকে ছুটির দিন হলেও গাড়ি বহরকে কেন্দ্র করে রাজধানীর প্রবেশমুখ কাঁচপুর ব্রিজ, সাইনবোর্ড এলাকায় প্রচণ্ড যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। অপহরণের পর সাত খুনের হোতাদের গ্রেফতার ও খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগানও দিচ্ছেন তারা। এর আগে মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১১টার দিকে গুলশানের বাড়ি থেকে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে খালেদা জিয়ার গাড়ি বহর রওয়ানা দেয়।
গাড়ি বহরে বিএনপি নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন গণমাধ্যমের গাড়িও বহরে আছে।এদিকে নয়াপল্টন, রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারসহ বিভিন্ন এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সুশৃঙ্খলভাবে গাড়ি বহর চলতে সাহায্য করছেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও।
সরকারের পদত্যাগ দাবি
নারায়ণগঞ্জে ‘সেভেন মার্ডার’ এর ঘটনায় র্যাব ও আওয়ামী লীগকে দায়ী করে অবিলম্বে সরকারের পদত্যাগ দাবি করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি বলেছেন, র্যাব এবং আওয়ামী লীগ এ গুম ও খুনের জন্য দায়ী। সরকারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ নিহত ৫ জনের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাত করতে এসে তিনি এ দাবি জানান।
খালেদা জিয়া বলেন, এ হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত তা প্রমাণিত হলেও তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছেনা। এতে প্রমাণ হয়, সরকার খুনিদের মদত দিচ্ছে। এ সরকার একটি খুনি সরকার। তারা র্যাবকে দিয়ে হত্যা ও গুমের মহোৎসবে মেতে উঠেছে। নজরুল ইসলামের বাড়িতে প্রায় ৪০ মিনিট অবস্থান করেন খালেদা জিয়া। এসময় নিহতদের পরিবারের সদস্যরা খালেদা জিয়ার কাছে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। এরপর খালেদা জিয়া অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। এর আগে দুপুর ১২টা ৫ মিনিটের দিকে খালেদা জিয়া নজরুল ইসলামের বাড়িতে পৌঁছেন।




