রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৬
প্রচ্ছদআরো খবর......প্রশাসনিক শৃঙ্খলা আনতে স্বতন্ত্র বিধিমালা প্রণয়ন করতে যাচ্ছে সিএমপি

প্রশাসনিক শৃঙ্খলা আনতে স্বতন্ত্র বিধিমালা প্রণয়ন করতে যাচ্ছে সিএমপি

প্রতিষ্ঠার ৩৬ বছর পর প্রশাসনিক শৃঙ্খলা আনতে ‘চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ’র আওতায় স্বতন্ত্র বিধিমালা প্রণয়ন করতে যাচ্ছে সিএমপি। বিধিমালার মাধ্যমে সিএমপি’র সকল বিভাগ, থানা, প্রশাসনিক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণসহ সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ’১৯৭৮ এর ১১৩ ধারা মোতাবেক সিএমপি কমিশনার স্বতন্ত্র বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছেন। এজন্য অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন, অর্থ ও ট্রাফিক) একেএম শহিদুর রহমানের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের একটি কমিটি এবং পৃথক ৪টি উপ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি বিধিমালার খসড় প্রণয়ন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সিএমপি’র জন্য নতুন বিধিমালা চূড়ান্ত করা হবে।

স্বতন্ত্র বিধিমালা প্রণয়ন কমিটির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন, অর্থ ও ট্রাফিক) একেএম শহিদুর রহমান  বলেন, ডিএমপি ২০০৬ সালে স্বতন্ত্র বিধিমালা প্রণয়ণ করেছে। আমরাও তিন-চার মাসের মধ্যে বিধিমালার খসড়া তৈরি করতে পারব। আমরা এখন পিআরবি (পুলিশ রেজুলেশন অব বাংলাদেশ) অনুসরণ করি। বিধিমালা চূড়ান্ত হলে সেই অনুসারে সিএমপি’র কার্যক্রম চলবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যে অধ্যাদেশবলে ১৯৭৮ সালে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, তার ১৩৩ ধারায় পুলিশ কমিশনারকে খসড়া বিধিমালা প্রণয়ণের ক্ষমতা দেয়া হয়েছিল। তবে প্রয়োজন না হওয়ায় সিএমপি তখন বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়নি।

কিন্তু প্রতিষ্ঠার তিন দশক পর চট্টগ্রাম নগরী সম্প্রসারিত হয়েছে কয়েকগুণ। সিএমপি’র লোকবল বেড়েছে, থানা ও বিভাগ বেড়েছে। একইভাবে সিএমপিতে পদও বেড়েছে। বিধিমালা না থাকায় সকল স্তরের কর্মকর্তা, বিভাগ ও থানার মধ্যে সমন্বয় করে সিএমপি’র প্রশাসনিক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনায় বেগ পেতে হচ্ছে। তাই সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব বিধিবদ্ধ করে সিএমপির কার্যক্রম সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য বিধিমালা প্রণয়ন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন নগর পুলিশের কর্মকর্তারা।

সূত্র জানায়, গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর পুলিশ কমিশনারের অফিস আদেশের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি একেএম শহিদুর রহমানের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের স্বতন্ত্র বিধিমালা প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু সেপ্টেম্বর থেকে রাজনৈতিক অস্থিরতা, জানুয়ারিতে নির্বাচনসহ বিভিন্ন জটিলতায় বিধিমালা প্রণয়নের কাজে কিছুটা স্থবিরতার সৃষ্টি হয়। সম্প্রতি পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় বিধিমালা প্রণয়নের কাজ আবারও জোরালো করেছে পুলিশ।

সূত্রমতে, ১৪ সদস্যের কমিটির বাকি ১৩ সদস্য হলেন, উপ পুলিশ কমিশনার (সদর) মাসুদ-উল-হাসান, উপ পুলিশ কমিশনার (ডিবি) কুসুম দেওয়ান, উপ পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) ফারুক আহমেদ, অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (ইমিগ্রেশন) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (ডিবি) বাবুল আক্তার, সহকারী পুলিশ কমিশনার (সদর) মাহমুদা বেগম, সহকারী পুলিশ কমিশনার (ফোর্স) পলাশ কান্তি নাথ, সহকারী পুলিশ কমিশনার (বিশেষ শাখা) কাজী নজরুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ কমিশনার (প্রসিকিউশন) এস এম নূরুল হুদা, পুলিশ পরিদর্শক (ডিবি) বাবুল চন্দ্র বণিক, সিএমপির আরওআই মো.মোকছেদুর রহমান, মহানগর আদালতের উপ-পরিদর্শক (এস আই) মো.সিরাজুল ইসলাম এবং আর ও-১ এম এম মহীদুল ইসলাম। কমিটিতে সহকারী পুলিশ কমিশনার (সদর) মাহমুদা বেগমকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

কমিটি ইতোমধ্যে তিনটি সভা করেছে। এসব সভায় চারটি উপ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সর্বশেষ সভা হয়েছে ৩ এপ্রিল। আগামী ১০ এপ্রিল চতুর্থ সভা আহ্বান করা হয়েছে।

চারটি উপ কমিটির প্রথমটিতে উপ পুলিশ কমিশনার (সদর) মাসুদ-উল-হাসানকে প্রধান করা হয়েছে। তার সঙ্গে আছেন, অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (সদর) মো.শহীদ ‍আবু সরোয়ার, অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মো.শহীদুল্লাহ, সহকারী পুলিশ কমিশনার (সদর) মাহমুদা বেগম, সহকারী পুলিশ কমিশনার (বিশেষ শাখা) কাজী নজরুল ইসলাম, পুলিশ পরিদর্শক (ডিবি) নূরুল আলম তালুকদার এবং আর ও-১ এম এম মহীদুল ইসলাম।

দ্বিতীয় উপ কমিটিতে প্রধান করা হয়েছে উপ পুলিশ কমিশনার (ডিবি) কুসুম দেওয়ানকে। তার সঙ্গে আছেন অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (ডিবি) বাবুল আক্তার, অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (প্রসিকিউশন) মুহাম্মদ রেজাউল মাসুদ, সহকারী পুলিশ কমিশনার (এস্টেট) নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী, পুলিশ পরিদর্শক (ডিবি) বাবুল চন্দ্র বণিক ও ফজলুল করিম সেলিম এবং এস আই প্রসূন কান্তি দাশ।

তৃতীয় উপ কমিটিতে উপ পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) ফারুক আহমেদকে প্রধান করা হয়েছে। তার সঙ্গে আছেন সহকারী পুলিশ কমিশনার (ইমিগ্রেশন) মো.মাঈন উদ্দিন, সহকারী পুলিশ কমিশনার (ফোর্স) পলাশ কান্তি নাথ, মহানগর আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো.শাহজাহান মিয়া।

চতুর্থ উপ কমিটিতে প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (ইমিগ্রেশন) মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে। তার সঙ্গে আছেন সহকারী পুলিশ কমিশনার (প্রসিকিউশন) এস এম নূরুল হুদা, সহকারী পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) মো.আব্দুর রহীম, আরওআই মোকছেদুর রহমান এবং মহানগর আদালতের এস আই মো.সিরাজুল ইসলাম।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার একেএম শহিদুর রহমান  বলেন, বিধিমালায় ডিবি, ট্রাফিক, ইমিগ্রেশন, প্রসিকিউশন, বিশেষ শাখা, ফোর্স, প্রশাসনিকসহ সকল বিভাগের দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করা হবে। সংশ্লিষ্ট কোন পদের কর্মকর্তা কি দায়িত্ব পালন করবেন তা-ও সুনির্দিষ্ট করা হবে। থানা, ফাঁড়ির দায়িত্ব, কার্যক্রমের আওতা কতটুকু তা বিধিমালায় উল্লেখ থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ