রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়হাসিনা-মনমোহন বৈঠকে আসবে প্রতিশ্রুতি এবংঅমীমাংসিত ইস্যু

হাসিনা-মনমোহন বৈঠকে আসবে প্রতিশ্রুতি এবংঅমীমাংসিত ইস্যু

ষ্টাফ  রিপোর্টার  (বিডিসময়২৪ডটকম)

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আবারও ক্ষমতায় ফিরেছেন শেখ হাসিনা। অন্যদিকে, ক্ষমতা ছাড়ার প্রান্তে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। এমন সময়ে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যকার বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার প্রতিশ্রুতি এবং অমীমাংসিত ইস্যুগুলোই আলোচনায় আসবে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র।

আগামী ৪ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বে অব বেঙ্গল ইনিসিয়েটিভ মাল্টি সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের (বিমসটেক) বৈঠকে যোগ দিতে গিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং সাইড-লাইন বৈঠক করবেন।

এ সময় বিশেষ করে ২০১১ সালে বাংলাদেশ সফরকালে মনমোহন সিংয়ের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর হাল-নাগাদ তথ্য নিয়ে আলোচনা হবে। এর মধ্যে তিস্তা নদীর পানিবণ্টন, স্থলসীমান্ত চুক্তি, সীমান্তহত্যা বন্ধ, লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় ৮০ কোটি ডলার ঋণ, অশুল্ক বাধা দূর করে বাণিজ্যে ভারসাম্য তৈরির মতো ইস্যুগুলো আসবে।  পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে এ সব বিষয়ে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

সোমবার বিমসটেকের বৈঠকে যোগ দিতে ৩২ সদস্যের এক প্রতিনিধি দল নিয়ে মিয়ানমার যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৪ মার্চ বিমসটেক সরকার প্রধানদের বৈঠকে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি ভারত, মিয়ানমার, ভুটান ও নেপালসহ অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সরকার প্রধানদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন। একই দিনে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা ফিরে আসবেন।

মিয়ানমারের রাজধানী নেপিতোতে দীর্ঘ ছয় বছর পর বিমসটেকের তৃতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এবারের বিমসটেকে তিন ধাপে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সরকার প্রধানদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মধ্যকার বৈঠকে যোগ দিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হক। আর মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিতে মিয়ানমারে অবস্থান করছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহ্‌রিয়ার আলম।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এবারের বিমসটেকের বৈঠকে তিনটি বিষয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হবে।

সমঝোতাগুলো হচ্ছে- ঢাকায় বিমসটেকের সদর দফতর স্থাপন, দিল্লিতে আবহাওয়া ও পরিবেশ কেন্দ্র এবং থিম্পুতে সংস্কৃতিকেন্দ্র স্থাপন। ঢাকায় বিমসটেক সদর দফতর স্থাপনের সিদ্ধান্তটি আগেই হয়েছিল। এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকায় সদর দফতর স্থাপিত হবে এবং শ্রীলঙ্কা থেকে নিয়োগ দেওয়া হবে প্রথম মহাসচিব। সদর দফতরের জন্য বাংলাদেশ সরকার গুলশানে একটি ভবন বরাদ্দ দিয়েছে।

এছাড়া এবারের বিমসটেকের ১৪টি বিষয়ের মধ্যে বৈঠকে অগ্রাধিকারমূলক বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, যোগাযোগ, জ্বালানি, পর্যটন, প্রযুক্তি, মৎস্য, কৃষি, সংস্কৃতি, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তন, স্বাস্থ্য, জনগণের মধ্যে সম্পৃক্ততা, দারিদ্র্য বিমোচন এবং সন্ত্রাস দমন ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ।

বাংলাদেশ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং জলবায়ু পরিবর্তন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছে। এবারের সরকার প্রধানদের বৈঠকে সর্বশেষ বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলোর হালনাগাদ তথ্য পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি যে সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি, তার কারণও খতিয়ে দেখা হবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ, ভুটান, মিয়ানমার, ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং থাইল্যান্ডকে নিয়ে বিমসটেক গঠিত। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে সামনে রেখে ১৯৯৭ সালে এটি গঠন করা হয়।

এ ফোরামের প্রথম বৈঠক ২০০৪ সালে ব্যাংককে এবং দ্বিতীয় বৈঠক ২০০৮ সালে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ