ষ্টাফ রিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)
কৃষক শ্রমিক জনতালীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর টাঙ্গাইল-৮ আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। রোববার বিকাল ৪টায় দ্বিতীয় দফায় বৈঠক শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তার বাতিল আদেশ বহাল রেখে কাদের সিদ্দিকীর আপিল আবেদন খারিজ করে দেয় নির্বাচন কমিশন।
এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিব উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, স্থানীয় রির্টানিং অফিসার কাদের সিদ্দিকীসহ আরও দুইজনের যে মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন সে সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে। মনোনয়নপত্রের বিষয়ে তাদের আপিল খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। কাদের সিদ্দিকীর পক্ষে আপিল শুনানিতে অংশ নেয়া কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকী বলেন, আপিল খারিজের কপি হাতে পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে পৌনে ১১টা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে শুনানিতে অংশ নেন কাদের সিদ্দিকী। শুনানিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দিন আহম্মেদসহ অপর চার কমিশনার উপস্থিত ছিলেন।
শুনানি শেষে ইসি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, “ঋণখেলাপের বিষয়টি একটি ঠুনকো অজুহাত। সরকার যদি ইচ্ছা করে আমাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখবে, তাহলে নির্বাচন করব না। আমরা তো নির্বাচনে ছিলাম না। টাঙ্গাইল-৮ আসন যদি শূন্য না হতো আমরা নির্বাচনে অংশ নিতাম না। সেখান থেকে আমার দল জন্ম হয়েছে। তাই আমরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। এটা যদি টাঙ্গাইল-৬ হতো তাহলে অংশ নিতাম না।” তিনি অভিযোগ করেন, “নির্বাচন থেকে আমাকে দূরে রাখতে সরকার এ ষড়যন্ত্র করেছে।”
শুনানির রায় পরে দেয়ার বিষয়টির সমালোচনা করে তিনি বলেন, “এর আগে দেখেছি শুনানি শেষে রায় জানিয়ে দেয়া হয়। এই প্রথম দেখলাম বিকেলে রায় দেয়া হবে। এতে বোঝা যায়, ডাল ম্যা কুছ কালা হ্যায়।”
এটা কোনো ষড়যন্ত্র কিনা জানতে চাইলে বলেন, “হতেও পারে আবার নাও হতে পারে। এটা রিটার্নিং কর্মকর্তার অদক্ষতাও হতে পারে। কারণ আমাদের দেশে যোগ্য লোক যোগ্যস্থানে নেই।” ন্যায়বিচার না পেলে উচ্চ আদালতে যাবেন বলেও জানান।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার টাঙ্গাইল জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে রিটার্নিং অফিসার সৈয়দ মো. খুরশিদ আনোয়ার যাচাইবাছাই করে ঋণখেলাপের দায়ে কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন। একই দিন আরো ‘ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় কাদের সিদ্দিকী প্রধান নির্বাচন কমিশন বরাবর আপিল করেন। রাতে আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ২ মার্চ রোববার শুনানির দিন ধার্য করে নির্বাচন কমিশন। পরে সাড়ে রাত ৯টার দিকে শুনানিতে উপস্থিত থাকতে নির্বাচন কমিশন থেকে কাদের সিদ্দিকী বরাবর একটি চিঠি প্রস্তুত করা হয়। ওই রাতেই কাদের সিদ্দিকীর একজন প্রতিনিধি নির্বাচন কমিশন থেকেই তা সংগ্রহ করেন।




