স্পোর্টস ডেস্ক (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
আফগানিস্তান কোচ কবির খান পাকিস্তানের কাছে হেরে একরকম সতর্কবার্তা দিয়ে রেখেছিলেন বাংলাদেশসহ শ্রীলঙ্কা ও ভারতকে। তার শিষ্যরা সেটা পূরণ করে দেখালেন। এশিয়া কাপের মতো বড় টুর্নামেন্টের নতুন চমকরা হারিয়ে দিল স্বাগতিক বাংলাদেশকে, তাও আবার ৩২ রানের ব্যবধানে। ব্যাটিং-বোলিংয়ে অলরাউন্ডিং পারফরমেন্স করে আফগানিস্তান পেল প্রাপ্য জয়।
গত দেড় মাস ধরে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ টানা দুই ম্যাচ হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকেই গেল বলা চলে। এদিন টস জেতাকে সৌভাগ্যের ছোঁয়া মেনে ফিল্ডিং নিয়েছিলেন সদ্য চোট থেকে হালকা সেরে ওঠা বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। দলের বোলাররা তার সিদ্ধান্তকে যথার্থও করেছিলেন। কিন্তু আসগর স্তানিকজাই ও সামিউল্লাহ সেনওয়ারি শেষ ১০ ওভারে যা করলেন তাতে বিস্মিত না হয়ে উপায় ছিল না। একের পর এক চার ছক্কার ফুলঝুরি দেখিয়ে স্বাগতিকদের ধরাছোঁয়ার বাইরে নেয় গেলেন ম্যাচকে।
২৫৫ রানের লক্ষ্য বাংলাদেশের জন্য বড় কোনো লক্ষ্য ছিল না। কিন্তু আফগান বোলারদের কয়েকটি ব্রেকথ্রুতে আর উঠে দাঁড়াতে পারল না মুশফিক-নাসিররা। প্রথম এক রানের মধ্যে প্রথম দুই উইকেট নেই। এরপর ১৬১ রান থেকে চার রানের ব্যবধানে চারটি উইকেট হারাল তারা। নাসির চারবার জীবন পেয়েও দলকে নিয়ে যেতে পারলেন না লক্ষ্যে, যৌথভাবে দ্বিতীয় সেরা ৪১ রানে আউট তিনি।
১৬৫ রানে স্বাগতিকরা ৮ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল। সেসময়ে জিয়াউর রহমান চারটি চার ও তিনটি ছয়ে দর্শকদের বেশ উল্লাসে মাতালেন। রানের ব্যবধানও কমালেন। দলের যখন ২০৫ রান তখনই ২২ বলে ৪১ রানে আউট হন জিয়া। ব্যাটসম্যানদের আসা যাওয়ার মাঝে তার এই ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিং ভালোই লেগেছিল। এছাড়া মুমিনুল হকের ৫০ রানও ছিল উল্লেখযোগ্য। আর মুমিনুলের সঙ্গে মুশফিকের ৬৮ রান জুটি যা একটু স্বস্তি এনে দিয়েছিল।
দলকে বল হাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন নবী। নিজের তৃতীয় ও জয়ের শেষ বাধা রুবেল হোসেনকে সাজঘরে ফেরান তিনি। এছাড়া দুটি করে উইকেট দখল করেন শাপুর জাদরান ও হামিদ হাসান।
এর আগে ৯০ রানের মধ্যে আফগানিস্তানের পাঁচটি উইকেট নিয়ে বাংলাদেশ উল্লাসে মাতিয়েছিল ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে আগত দেশী দর্শকদের। তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে নেমে তখন সতীর্থদের যাওয়া আসা দেখছিলেন আসগর স্তানিকজাই। মাঠে এলেন সামিউল্লাহ সেনওয়ারি। পরের উল্লাস ছিল আফগান দর্শকদের। একের পর এক বাংলাদেশি বোলারদের বল আঁছড়ে মারতে থাকলেন সীমানার বাইরে। শেষ ১০ ওভারেই এই জুটিতে আসে ১০৭ রান।
অবশ্য দুজনে মিলে শেষ করতে পারেননি ব্যাটিং ইনিংস। এক বল বাকি থাকতে নন স্ট্রাইকিং প্রান্তে থাকা সেনওয়ারি রান আউট হন, ভাঙে ১৬৪ রানের জুটি। ক্যারিয়ারের চতুর্থ ও টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষে প্রথম ফিফটি পাওয়া এই ডানহাতি করেন ৮১ রান, ৬৯ বলে ১০ চার ও এক ছয়ে সাজানো তার ইনিংস।
স্তানিকজাইও পান চতুর্থ ফিফটি। তবে টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষে এটি তার দ্বিতীয়। ২০১২ সালের আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৬৬ রানের ইনিংস ছিল তার। এদিন ১০৩ বল খেলে ৯০ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। ছয়টি চার ও তিন ছয়ের দারুণ ইনিংস খেলেন এই ডানহাতি।
শুরুটা বাংলাদেশের পক্ষেই ছিল। দলীয় ৬ রানে মোহাম্মদ শাহজাদকে ফেরান রুবেল হোসেন। দলের ১২ ও ১৪তম ওভারে সানি সাজঘরে ফেরান করিম সাদিক (১২) ও নাজিবুল্লাহ জাদরানকে (২১)। কয়েক ওভার পর নাঈমের থ্রোতে নওরোজ মঙ্গল ২৪ রানে রান আউট হন। নবী ব্যক্তিগত ৭ রানে নাসির হোসেনের হাতে ক্যাচ তুলে দেন। ২৭ ওভারে ৯০ রানে পাঁচ উইকেট নেই আফগানদের। এরপর ঘুরে দাঁড়ান সেনওয়ারি-স্তানিকজাই।




