শেষ দিনে জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর সম্পর্কিত বিষয়ে বিরোধীদলের ওয়াকআউটের কোনো কারণ বিএনপি দেখেনি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রবিবার (১২ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে এই কথা বলেছেন তিনি।
প্রাথমিক ভূমিকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশ শুরুর পর ঈদসহ নানা ছুটির কারণে আমরা পর্যাপ্ত সময় পাইনি। কেননা, অধিবেশন শুরুর পর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে অধ্যাদেশগুলো উত্থাপন করার নিয়ম ছিলো। কিন্তু আমাদের হাতে পর্যাপ্ত সময় না থাকায় শুক্রবারও আমরা সংসদ অধিবেশনে বসেছি।
অল্প কয়েকদিনের মধ্যে সবকিছু গুছিয়ে নেওয়া খুবই দুরূহ কাজ ছিলো। শেষের দিকে কোনো অধ্যাদেশ উত্থাপনের ক্ষেত্রে সময় স্বল্পতর কারণে পর্যাপ্ত সময়ে আগে আমরা বিলগুলো টেবিলে পাইনি।
তিনি আরও বলেন, বিধি মোতাবেক বেশ কয়েকবার বিরোধী দল ওয়াকআউট করেছেন। কিন্তু যেসমস্ত ইস্যুতে তারা ওয়াকআউট করেছেন সেগুলোর কিছু কিছু তথ্য সঠিক ছিলো না। বাহিরে এসে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু শেষ কার্যদিবসে জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ নিয়ে তাদের ওয়াকআউটের কোনো কারণ দেখেনি বিএনপি।
এসময় আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৭টি অধ্যাদেশ হুবহু পাস হয়েছে। ১৩টি অধ্যাদেশ সংশোধিতা আকারে পাস করা হয়েছে। ৭টি অধ্যাদেশ রহিতকরণ হেফাজতবিল করে পাস করিয়েছি। আর ১৬টি অধ্যাদেশ আমরা উপস্থাপন করিনি। সবমিলিয়ে ৯১টি বিলের মাধ্যমে ১১০টি আইন পাস করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মানবাধিকার কমিশন আইন, সুপ্রিম বিচারক নিয়োগ আইন, সুপ্রিম সচিবাল বিষয়ক আইন এই বিলগুলো উত্থাপনের সময় কারণ উল্লেখ করতে হয়। এগুলোর ক্ষেত্রে আমরা অধিকতর যাচাই-বাছাই প্রয়োজন উল্লেখ করেছি। আমরা এখানে কোনো অস্পষ্ট কিছু রাখিনি। যারা বলছেন আমরা এটা করিনি, বাদ দিয়েছি তারা এটা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।’
গুম কমিশন নিয়ে বলেন, ‘গুমের সংজ্ঞায়িত করেছে আইসিটি আইনের মাধ্যমে। কিন্তু গুম কমিশনের আইনের মধ্যে পার্থক্য করলেন না। বললেন যে, মানবাধিকার বিষয়ক আইন ই গুম কমিশন আইন এখানে অস্পষ্টতা থেকে যাবে। তাই এখানে আরও যাচাই-বাছাই প্রয়োজন বলে আমরা উল্লেখ করেছি।
মানবাধিকার কমিশনের বিষয়ে কতদিনের মধ্যে যথোপযুক্তভাবে তদন্ত দিন নির্ধারণ করা হয়নি। দুই পক্ষকে ডেকে যে অপশনগুলো থাকবে সেগুলো হলো জরিমানা করা, ক্ষতিপূরণ দাবি, মামলা করবে নাকি অন্য কোথাও যাবে সেই পরামর্শ দিবে অথবা মানবাধিকার কমিশন বাদী হয়ে মামলা করতে পারবে। কিন্তু এখানে জরিমানা কত বা ক্ষতিপূরণ কত দিবে তার কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই।’
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, এক-এগারোর সময়ের সরকার ১২২টি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। সেখান থেকে মাত্র ৫৪টি আইনে পরিণত করা হয়েছিল। আর আমরা ইতোমধ্যে প্রায় ১১৭টিই আইনে রূপান্তর করেছি।




