আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) থেকে শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর এটিই বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সংসদের প্রথম যাত্রা।
তবে কে হচ্ছেন নতুন সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার এবং উদ্বোধনী বৈঠকে কে সভাপতিত্ব করবেন— তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বুধবার।
বুধবার সকালে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই বৈঠকেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদের প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করা হবে। স্পিকার হিসেবে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. ওসমান ফারুকের নাম আলোচনায় থাকলেও হাফিজ উদ্দিন আহমদের সম্ভাবনা বেশি বলে গুঞ্জন রয়েছে।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, আজকের বৈঠকেই অধিবেশন শুরুর সভাপতিত্বসহ গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
‘জুলাই জাতীয় সনদ’ অনুযায়ী আইনসভা দ্বিকক্ষবিশিষ্ট করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিএনপি ইতোমধ্যে ডেপুটি স্পিকারের পদটি প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীকে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে জামায়াত এটি ‘রাজনৈতিক অনুগ্রহ’ হিসেবে নয়, বরং ‘জুলাই সনদে’র প্রতিফলন হিসেবে পেতে আগ্রহী। আজ বিরোধী দলের সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের আহ্বানে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় সংসদ কক্ষে অধিবেশন শুরু হবে। সাধারণত বিদায়ী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার প্রথম বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। তবে দ্বাদশ সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করায় এবং তৎকালীন ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু কারাগারে থাকায় তৈরি হয়েছে নতুন পরিস্থিতি।
এমন প্রেক্ষাপটে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম বৈঠকের শুরুতে সভাপতিত্ব কে করবেন, তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে কোনো সংসদ সদস্যকে এই দায়িত্ব দেওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম আলোচনায় রয়েছে।
সভাপতির সূচনা বক্তব্যের পর নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হয়। এরপর তাদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি। এ সময়টাতে অধিবেশনে বিরতি থাকে। এরপর নতুন স্পিকারের সভাপতিত্বে আবার অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়। সাধারণত নতুন স্পিকারকে স্বাগত জানিয়ে সংসদের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা বক্তব্য দিয়ে থাকেন।
সংবিধান অনুযায়ী, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে এবং বছরের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিয়ে থাকেন। শোক প্রস্তাব গ্রহণের পর সংসদে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি। এরপর রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। অধিবেশনজুড়ে এই প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করেন সংসদ সদস্যরা।
এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশগুলো সংসদের প্রথম বৈঠকে উত্থাপন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা আছে। উত্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে সংসদ কোনো অধ্যাদেশ অনুমোদন না করলে সেটার কার্যকারিতা থাকবে না।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাই করে এরপর অনুমোদন করা হবে।




