বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬
প্রচ্ছদচট্রগ্রাম প্রতিদিনমন্ত্রিসভায় চট্টগ্রাম থেকে আলোচনায় যারা

মন্ত্রিসভায় চট্টগ্রাম থেকে আলোচনায় যারা

তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পাওয়ার পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নতুন মন্ত্রিসভায় চট্টগ্রাম থেকে কারা স্থান পাচ্ছেন—এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে জোর আলোচনা। বিএনপির একাধিক নেতার মতে, সম্ভাব্য তালিকায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সাঈদ আল নোমান ও ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম–১১ আসন থেকে নির্বাচিত আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে আন্দোলন–সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং কারাবরণের অভিজ্ঞতা তাকে নেতৃত্বের আস্থার জায়গায় রেখেছে। অতীতে বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই নেতা নতুন মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।

চট্টগ্রাম–১০-এর সাঈদ আল নোমানের নামও আলোচনায় রয়েছে। তিনি প্রয়াত আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে। সাঈদ আল নোমান উচ্চ শিক্ষিত। অঙফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে এমফিল এবং লন্ডন স্কুল অব ইকোনমসিঙ অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়েছেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটি থেকেও স্নাতক ডিগ্রি নিয়েছেন। নতুন মন্ত্রিসভায় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম–৫ আসন থেকে নির্বাচিত ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের নামও সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা সদস্য হিসেবে ঘুরছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ–সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দলীয় কর্মকাণ্ডে তার সক্রিয় ভূমিকা এবং নির্বাচনী জয়ের ব্যবধান তাকে আলোচনায় এনেছে। গুরুত্বপূর্ণ কোনো মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেতে পারেন বলে ধারণা করছেন দলীয় নেতারা।

চট্টগ্রাম–৪ আসনের নির্বাচিত লায়ন আসলাম চৌধুরীর নামও শুরুতে আলোচনায় থাকলেও চলমান মামলার কারণে তার মন্ত্রিত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা কম বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা।

এ ছাড়া রাউজান থেকে নির্বাচিত গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম–৯ আসনের আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম–৮ আসনের এরশাদ উল্লাহ এবং তরুণ নেতৃত্ব হিসেবে রাঙ্গুনিয়ার হুমাম কাদের কাদের চৌধুরীর নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে দলীয় সূত্র জানায়, এবার মন্ত্রিসভার আকার ছোট হতে পারে। সে ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম থেকে সীমিতসংখ্যক সদস্যই সুযোগ পেতে পারেন।

বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, তারুণ্যের পাশাপাপাশি প্রবীণদেরও মূল্যায়ন করা হবে মন্ত্রিসভায়। সেক্ষেত্রে চট্টগ্রাম থেকে প্রবীণ হিসেবে মন্ত্রিসভার জন্য আলোচনায় আছেন গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী। তিনি ১৯৯৬ সালে সপ্তম সংসদ নির্বাচনেও রাউজান থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন।

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকারও টেকনোক্রেট মন্ত্রী হতে পারেন বলেও দাবি তার অনুসারিদের। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে রাউজান থেকে গিয়াস কাদের চৌধুরীর পাশাপাশি দলের প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছিলেন গোলাম আকবরও। যদিও শেষ মুহূর্তে চূড়ান্ত মনোনয়ন পান গিয়াস কাদের। গোলাম আকবর খোন্দকারের অনুসারিদের দাবি, দল মনোনয়ন না দিলেও মূল্যায়ন করবে তাকে। সেক্ষেত্রে মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন। তিনি ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাউজান থেকে থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

সাধারণত চট্টগ্রাম–৯ আসন থেকে দলের কেউ নির্বাচিত হলে তাকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেয়ার প্র্যাক্টিস আছে রাজনৈতিক দলগুলো থেকে। সেক্ষেত্রে এবার এ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান মন্ত্রিসভায় ‘প্রতিমন্ত্রী’ হিসেবে স্থান পেতে পারে বলে দাবি করেছেন তার অনুসারিরা।

এর আগে, ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি–জামায়াত জোট সরকারে চট্টগ্রাম থেকে পূর্ণমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রী পদমর্যাদায় মোট আটজন স্থান পেয়েছিলেন। এবারও চট্টগ্রাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও আগের মতো বড় প্রতিনিধিত্ব নাও হতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।

নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ২৯৭ আসনের ফল ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে বিএনপি ২০৯ এবং জামায়াত ৬৮ আসনে জয়ী হয়েছে। সরকারপক্ষ জানিয়েছে, ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ এবং ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন হতে পারে। সর্বাধিক আসন পাওয়ায় বিএনপির সংসদ নেতা নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হবেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ