চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহীম খোকনকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার সন্ধ্যায় বন্দর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। বন্দর থানা পুলিশ ইব্রাহীম খোকনকে আটকের কথা স্বীকার করেছে।
নিউমুরিং কন্টেনার টার্মিনাল (এনসিটি) আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে লাগাতার ধর্মঘট স্থগিতের পরদিন আটক হন ইব্রাহীম। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ–কমিশনার (মিডিয়া) আমিনুর রশিদ বলেন, র্যাবের একটি দল তাকে আটক করে বন্দর থানায় সাপর্দ করেছে। যাচাই–বাছাই শেষে পুলিশ পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।
এনসিটি বিদেশিদের ইজারা দেওয়ার সরকারি উদ্যোগের প্রতিবাদে ৩১ জানুয়ারি থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে কর্মবিরতি শুরু করে বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। পরে লাগাতার কর্মবিরতি হয় বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে। এর নেতৃত্বে থাকা ইব্রাহীম খোকন বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদকও।
স্কপের নিন্দা, প্রতিবাদ : বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহীম খোকনকে আটকের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। গতকাল সংবাদপত্রে প্রেরিত এক যৌথ বিবৃতিতে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য ও টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, স্কপ চট্টগ্রাম জেলার সমন্বয়ক এস কে খোদা তোতন ও ইফতেখার কামাল খান, ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সভাপতি খোরশেদুল আলম, বিএফটিইউসির সভাপতি কাজী আনোয়ারুল হক হুনি, বিএলএফের সভাপতি নুরুল আবসার তৌহিদ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের নেতা হেলাল উদ্দিন কবির এবং বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জাহেদ উদ্দিন শাহিন বলেন, প্রশাসন শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ পরিহার করে বারবার শ্রমিকদের সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। গতকাল বন্দরের ৫ জন শ্রমিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ আবার ইব্রাহীম খোকনকে আটক করে প্রশাসন পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার উসকানিতে লিপ্ত হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, গতকাল গভীর রাতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট কর্মসূচি প্রত্যাহারের পর যখন বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক ও স্থিতিশীলভাবে চলছিল, ঠিক তখনই প্রশাসনের এমন রহস্যজনক ও নেতিবাচক পদক্ষেপ গভীর সন্দেহের জন্ম দেয়। এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, একটি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে বন্দর পরিস্থিতি অশান্ত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
স্কপ নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে ইব্রাহীম খোকনসহ গ্রেপ্তার সকল শ্রমিক নেতাকর্মীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান। একইসঙ্গে আন্দোলনরত বন্দর শ্রমিকদের বিরুদ্ধে জারি করা হয়রানিমূলক সাময়িক বরখাস্ত ও দমনমূলক সকল আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানান। তারা বলেন, দমন–পীড়ন, গ্রেপ্তার ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলন দমন করা যাবে না। বন্দর ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার সংগ্রামে শ্রমিকরা অতীতেও আপস করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না। প্রশাসন যদি এই উসকানিমূলক আচরণ থেকে সরে না আসে, তবে এর দায় সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হবে।
স্কপ বিশ্বাস করে, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। এই বন্দরের শ্রমিকদের কণ্ঠরোধ করে কোনো টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। অবিলম্বে দমননীতি পরিত্যাগ করে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানে এগিয়ে আসার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।




