গভীর রাতে রাজধানীর মিরপুরে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ তিন প্রতিষ্ঠানের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে, এসব ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। রোববার (৯ নভেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার পর থেকে সোমবার (১০ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে।
এদিকে, রাত ২টা ৪৩ মিনিটে মিরপুরের গ্রামীণ ব্যাংকে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এ ঘটনায় একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একটি মোটরসাইকেলে করে সাদা পোশাক পরিহিত দুইজন ব্যক্তি এসে গ্রামীণ ব্যাংকের সামনে দাঁড়ায়। এ সময় তাদের মুখে গামছা বাঁধা ছিল। মুহূর্তের মধ্যেই তারা পরপর দুইটি ককটেল নিক্ষেপ করে মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
অন্যদিকে, সকাল সাড়ে ৭টায় মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্রবর্তনার ভেতর ও সামনে দুইটি ককটেল নিক্ষেপ করে। এতে দুইটি ককটেল বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। তবে, এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।
একই সময়ে সকাল সাড়ে ৭টায় ধানমন্ডি ২৭ নম্বর মাউডাস সেন্টারের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, সকাল সাড়ে ৭টায় একটি মোটরসাইকেলে দুই-তিনজন এসে একটি ককটেল নিক্ষেপ করে। এতে বিকট শব্দে ককটেল বিস্ফোরণ হলে আশপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে। এ ঘটনায় কেউ আহত হয়নি।
এদিকে ১৩ নভেম্বর কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের দেশব্যাপী লকডাউনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী রফিক আহমেদ। তিনি বলেন, সকালের দিকে গলির ভেতরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের উপদেষ্টার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করে দুষ্কৃতিকারীরা ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটায়। ঘটনাস্থলে আমাদের পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। যারা এই ঘটনা ঘটক না কেন তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে ককটেল নিক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করে ধানমন্ডি জোনের এসি শাহ মোস্তফা তারিকুজ্জামান বলেন, মোটরসাইকেল আরোহীরা আজকে আনুমানিক সকাল ৭ টায় ইবনে সিনা হাসপাতালের সামনে ২টি এবং রাপা প্লাজার উল্টাপাশ থেকে মাইডাস সেন্টারের সামনে ২টি করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এই ঘটনায় কোনো হতাহত নেই। আলামত ও সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।




