রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৬
প্রচ্ছদদেশজুড়েপ্রতিবন্ধী নারীবান্ধব স্যানিটারি পণ্য উদ্ভাবনে সরকারী-বেসরকারি অংশীদারিত্বের আহবান

প্রতিবন্ধী নারীবান্ধব স্যানিটারি পণ্য উদ্ভাবনে সরকারী-বেসরকারি অংশীদারিত্বের আহবান

প্রতিবন্ধী নারীদের জন্য মাসিকের সময় স্যানিটারি পণ্যের প্রয়োজনের উপর ভিত্তি করে উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়াটারএইড বাংলাদেশ এবং কিম্বার্লি ক্লার্ক-এর সহযোগিতায় বি-স্ক্যান আয়োজন করেছে “প্রতিবন্ধী নারীদের জন্য সহজলভ্য ও নিরাপদ স্যানিটারি পণ্য উদ্ভাবন প্রতিযোগিতা ২০২৫”। এ উপলক্ষ্যে আজ ১৭ এপ্রিল ২০২৫, বৃহস্পতিবার, সকাল ১১ টায় বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন এর মিলনায়তনে একটি অনাড়ম্বর আয়োজনের মাধ্যমে প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখিত আয়োজনে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. আশরাফী আহমদ এনডিসি, মহাপরিচালক, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, মোঃ সাইদুর রহমান খান, মহাপরিচালক সমাজসেবা অধিদপ্তর, মো. মনির হোসেন, অতিরিক্ত পরিচালক (উপসচিব), মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর এবং হাসিন জাহান, দেশস্থ পরিচালক, ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ও সভাপতি, এমএইচএম প্ল্যাটফর্ম।

হাসিন জাহান, দেশস্থ পরিচালক, ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ও সভাপতি, এমএইচএম প্ল্যাটফর্ম তার স্বাগত বক্তৃতায় বলেন –প্রতিবন্ধী নারীদের জন্য সহজলভ্য ও  নিরাপদ পণ্য উদ্ভাবন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমার অনেক দিনের একটি স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। বড় একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রতিবন্ধী নারীদের জন্য স্যানিটারি পণ্য তৈরির অনুরোধের করি। তখন আমি বুঝতে পারি যে এই উদ্ভাবনের কাজটি ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে আসতে হবে। এই অবস্থায় বি-স্ক্যানকে এই উদ্যোগের প্রস্তাব করলে তারা এগিয়ে আসে। ভাল প্রস্তাব পেলে আমরা তিনের অধিক প্রতিষ্ঠানকে পৃষ্ঠপোষকতার জন্য প্রস্তুত আছি।

মো. মনির হোসেন, অতিরিক্ত পরিচালক, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর বলেন –  মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা (Menstrual Hygiene Management – MHM) এখনো পর্যন্ত প্রতিবন্ধী নারীদের প্রেক্ষাপটে যথাযথভাবে আলোচিত। সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাধানে আসা সম্ভব—যেখানে কাউকে পিছনে ফেলে রাখা হবে না। বাজেট ও কর্মসূচির আলোকে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” এছাড়াও তিনি বিদ্যমান কর্মসূচির মধ্যে এই প্রতিযোগীতাকে সম্পৃক্ত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মোঃ সাইদুর রহমান খান, মহাপরিচালক সমাজসেবা অধিদপ্তর বলেন – একজন নারী গড়ে জীবনের প্রায় ৩,০০০ দিন মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় কাটান। অথচ এই দীর্ঘ সময়ে যদি অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার হন, তবে শুধু শারীরিক নয়, মানসিক স্থিতিশীলতাও চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই পরিস্থিতিতে প্রতিবন্ধী নারীদের জন্য সহজলভ্য ও  নিরাপদ পণ্য উদ্ভাবন প্রতিযোগিতা-২০২৫ একটি চমৎকার সুযোগ—যার মাধ্যমে প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে আমরা সহজলভ্য, নিরাপদ ও সম্মানজনক মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পারি। বি-স্ক্যানের মতো ক্যাটালিস্টরা আরও সামনে আসুক, যেন আমরা সম্মিলিতভাবে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে পারি।

সভায় উপস্থিত বক্তা ডা. আশরাফী আহমদ এনডিসি, মহাপরিচালক, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর বলেন – বাস্তবে না থাকলেও আমাদের পণ্যের ডিজাইন এক্সেসিবল হতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, এই সৃজনশীল প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ভালো উদ্যোগগুলো তুলে আনা সম্ভব। এজন্য প্রয়োজন বিভিন্ন কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ, সহযোগিতা ও সাহসিকতা। জুলাই আন্দোলনের পর নতুন নতুন উদ্ভাবণী ধারনা আমাদের আরো সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এরপর তিনি প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করে এর সাফল্য কামনা করেন।

বি-স্ক্যান’র সাধারণ সম্পাদক সালমা মাহবুবের সঞ্চালনায় আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফ, ঋতু, সেভ দ্যা চিলড্রেন, স্কয়ার ফার্মা, সাইটসেভার্স, হিউমিনিটি ইনক্লুশন (এইচআই), এসপিইউএস, ডিসিএফ, আইসিডিডিআরবিসহ বিভিন্ন স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা, এনজিও কর্মী, সিভিল সোসাইটি সংগঠন, উন্নয়ন অংশীদার, যুব উদ্ভাবক, পণ্য ডিজাইনার, প্রকৌশলী, শিক্ষার্থী, স্টার্টআপ প্রতিনিধি ও প্রতিবন্ধী অধিকারকর্মীরা।

এছাড়াও সার্বিক পরিস্থিতি এবং প্রতিযোগিতার বিষয়সমূহ নিয়ে উপস্থাপনা করেন শাওনি ইমাম, সহযোগি সমন্বয়কারি, বি-স্ক্যান। এর পূর্বে একটি ভিডিও তথ্যচিত্র দেখানো হয়।

মুক্ত আলোচনায় অংশ নেওয়া প্রতিবন্ধী নারীরা বলেন, ঋতুকালীন সময়ে তাদের জন্য উপযোগী, নিরাপদ ও সহজলভ্য পণ্যের এখনো ঘাটতি রয়েছে। তারা জানান, মাসিককালীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় এখনও নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়। কথা বলার পাশাপাশি তারা তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে যেসব সমস্যার সম্মুখীন হন, তা তুলে ধরে বলেন। ইফতেখার মাহমুদ, পরিচালক বি-স্ক্যান বলেন সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে উদ্ভাবন ও সরবরাহের ক্ষেত্রে পৃষ্ঠপোষকতা করলে তা প্রান্তিক মানুষের জন্য সহজলভ্য হয়ে উঠবে। মাসিক বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য  ও পণ্য সমতল থেকে পাহাড় পর্যন্ত পৌছে দিতে হবে। বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধী নারীদের মাসিক স্বাস্থ্যব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা ভিন্ন ভিন্ন। সভায় বেশিরভাগ নারী স্যানিটারি প্যাডের উচ্চমূল্য নিয়ে কথা বলেন।

উপস্থিত অতিথিবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উদ্ভাবিত পণ্যসমূহ মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় প্রতিবন্ধী নারীদের চাহিদা পূরণে একটি কার্যকর সমাধান হয়ে উঠবে, যা ভবিষ্যতের জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই মডেল হিসেবে কাজ করবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ