সোমবার, এপ্রিল ২২, ২০২৪
প্রচ্ছদইন্টারভিউবাজেট বাস্তবায়নে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সুশাসনের ওপর জোর দিলেন এফবিসিসিআই সভাপতি

বাজেট বাস্তবায়নে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সুশাসনের ওপর জোর দিলেন এফবিসিসিআই সভাপতি

fbcci pressউচ্চাভিলাষী না হলে উন্নতি করা সম্ভব না বলে উল্লেখ করেছেন এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন। বাজেট উচ্চাভিলাষী কি না গতকাল সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে দেওয়া অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যকে সমর্থন করে কাজী আকরাম বলেন, ‘সব কিছুর সমন্বয় হলেই এ বাজেট বাস্তবায়ন করা সম্ভব।’

শনিবার বিকেল তিনটায় এফবিসিসিআই (দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি)ভবনের কনফারেন্স হলে আয়োজিত  ‘২০১৩-১৪ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

বাজেট বাস্তবায়নে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সুশাসনের ওপর জোর দিয়ে কাজী আকরাম উদ্দিন বলেন, “এ বাজেট বাস্তবায়ন করতে হলে একদিকে যেমন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন, অন্যদিকে প্রয়োজন সুশাসন।” রাজস্ব আদায়ে এনবিআরের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি সংযমী ও সহনশীল রাজনীতিও বড় ভূমিকা পালন করে বলে এ সময় উল্লেখ করেন তিনি।

তবে সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়, এবারের বাজেট সরকারি ব্যাংক ঋণের ওপর বড় বেশি নির্ভরশীল হওয়ায় বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের ঋণ পেতে সমস্যার সৃষ্টি হবে।

সরকারি-বেসরকারি খাতে উৎপাদন ও উন্নয়ন সহায়ক প্রকল্পে অর্থায়নের ব্যবস্থা করে সরকারি-বেসরকারি খাতে দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ সমস্যা মোকাবেল‍া করতে সরকারের প্রতি আহবান জানান এফবিসিসিআই সভাপতি। পাশাপাশি ব্যাংকের স্প্রেডের পরিমাণ ৩ শতাংশে নামিয়ে আনার জন্যও অনুরোধ জানান তিনি।

পদ্মা সেতু ইস্যুতে তিনি বলেন, “বাজেটে ৬ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা পদ্মা সেতু নির্মাণে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ।”

আয়করের বিষয়ে সরকার যে প্রস্তাব রেখেছে তাতে নিম্ন আয়ের মানুষের করভার কমার পাশাপাশি করদাতারা সময়মতো কর প্রদানে আরও উৎসাহিত হবে বলে এ সময় উল্লেখ করেন এফবিসিসিআই সভাপতি।

“বিনিয়োগের স্বার্থে তৈরি পোশাকশিল্পসহ মোট ১৭টি খাতের কর অবকাশ ব্যবস্থা ২০১৫ সাল পর্যন্ত অব্যাহত রাখায় আমরা সরকারকে সাধুবাদ জানাচ্ছি”, বলে উল্লেখ করেন এফবিসিসিআই সভাপতি।

বাজেটে ক্যাপিটাল মেশিনারিজের আম‍দানি শুল্ক ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে দুই শতাংশ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে শুল্ক হার এক শতাংশে নামিয়ে আনার জন্য আবারও সরকারের প্রতি দাবি জানানো হয় এফবিসিসিআই এর পক্ষ। পাশাপাশি ‘লিফ স্প্রিং’ উৎপাদনকারী শিল্পের কাঁচামালের আমদানি শুল্ক না বাড়িয়ে আগের মতো ৫ শতাংশ রাখার দাবি জানানো হয়। এবারের বাজেটে লীফ স্প্রিংয়ের কাঁচামালের আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে।

এছাড়া ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের বার্ষিক টার্নওভার ট্যাক্সের পরিমাণ ৭০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ লাখ টাকা করায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন কাজী আকরাম উদ্দিন।

তবে এবারের বাজেট বাস্তবায়িত হলে বিস্কুট ও প্লাস্টিক শিল্প অসম প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।তিনি বলেন, বিদেশি বিস্কুট  আমদানিতে  শুল্ক হ্রাস পাওয়ায় আমদানিকৃত বিস্কুটের সাথে দেশীয় বিস্কুট টিকতে পারবে না। উৎপাদন পর্যায়ে প্লাস্টিক এবং অ্যালুমিনিয়াম থেকে ভ্যাট অব্যাহতি তুলে নেয়ায় স্থানীয় শিল্প অসম প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হবে।

সংবাদ সম্মেলনে চলতি বাজেটের প্রায় সব প্রস্তাবনার জন্যই সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে এফবিসিসিআই। সংবাদ সম্মেলনে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই’র সহ-সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিনসহ সংগঠনটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ