ব্রেকিং নিউজ

১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন যথাযথ : অ্যাটর্নি জেনারেল

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত ঘোষণা সংক্রান্ত জারি করা রুলের ওপর শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন যথাযথ। ওই সময় যদি নির্বাচন না হতো তাহলে অসাংবিধানিক শক্তি ক্ষমতা দখল করে নিতো। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্যই ওই নির্বাচন হয়েছে।

বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ রিটের শুনানি অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবারের শুনানিতে মাহবুবে আলম বলেন, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত ঘোষণা সংক্রান্ত বিধান অবৈধ ঘোষণা করা হলে শূন্যতা তৈরি হবে।  তিনি এ রিট আবেদনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ১৫৪ জন সংসদ সদস্যের পদ চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। অথচ তাদের বিবাদী করা হয়নি।

এ সময় আদালত বলেন, ১৫৪ জনের পদ চ্যালেঞ্জ করা হয়নি। জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ১৯ ধারা (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত) অবৈধ ঘোষিত হলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ১৫৪ সংসদ সদস্যও আইনের চোখে বৈধ বলে বিবেচিত হবেন না।

তিনি বলেন, অসৎ উদ্দেশ্যে এ রিট আবেদন করা হয়েছে। যারা ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রতিহত করার অপচেষ্টা করেছেন, তাদের পক্ষেই এ রিট আবেদন করা হয়েছে।

মাহবুবে আলম বলেন, আরপিও’র ১৯ ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনের পর ১৯৮৮ সালেই আবার নির্বাচন হয়েছিল। সে নির্বাচন হয়েছিল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে। নির্বাচন গ্রহণযোগ্য না হওয়ার কারণেই দ্রুত আরেকটি নির্বাচন হয়েছিল। আদালত কিন্তু নির্বাচনকে অবৈধ ঘোষণা করেননি। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনও গ্রহণযোগ্য হয়নি। এ কারণে ওই বছরেই আরেকটি নির্বাচন হয়। কিন্তু ১৫ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে অবৈধ বলা যাবে না।
৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অনেকেই প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু কোনো কোনো প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। ফলে অনেক আসনে একক প্রার্থী থেকে যান। আর এ কারণেই অনেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। কোনো আসনে একক প্রার্থী থাকলে তার কারণে নির্বাচন অবৈধ হতে পারে না বলে মন্তব্য করেন মাহবুবে আলম।

রাষ্ট্রের প্রধান এ আইন কর্মকর্তা আরো বলেন, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণার বিধান অবৈধ নয়, অসাংবিধানিকও নয়। বিশ্বের বহু দেশেই এ বিধান রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দু’জন প্রেসিডেন্ট বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। মাহবুবে আলম ছাড়াও রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা বক্তব্য রাখেন।

গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার আবদুস সালাম সুপ্রিম কোর্টে রিট আবেদনটি করেন। এ আবেদনের প্রেক্ষিতে  গত ১৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত করা সংক্রান্ত আরপিও’র ১৯ ধারা কেন সংবিধান পরিপন্থি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।

এ রুল শুনানির জন্য কয়েকজন অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ দেন আদালত। ইতোমধ্যে সিনিয়র আইনজীবী ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার রফিক-উল হক ও ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে আদালতে বক্তব্য রেখেছেন।

Please follow and like us:

About bdsomoy