সিলেটের নাজির বাজারে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই ১২ জন নিহত হয়েছেন । এ সময় আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন। আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর। তাদের উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
নিহতরা হলেন- সুনামগঞ্জের আলীনগরের শিশু মিয়ার ছেলে হারিছ মিয়া (৫৫), নেত্রকোনার বারহাট্টা এলাকার মৃত ইসলাম উদ্দিনের ছেলে আওলাদ হোসেন (৪০), সুনামগঞ্জের দিরাই ভাটিপাড়ার সিরাজ মিয়ার ছেলে মো. সৈয়ব আলী (২৭), একই এলাকার বাদশা মিয়া (২৫), দিরাই মধুপুর গ্রামের সুনাই মিয়ার ছেলে সাধু মিয়া (৪০), দিরাই ভাটিপাড়ার মৃত সজিব আলীর ছেলে রশিদ মিয়া (৫০), সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার বাবনগাওয়ের মৃত ওয়াহাব আলীর ছেলে শাহীন মিয়া (৪০), একই উপজেলার মুরাদপুরের হারুন মিয়ার ছেলে দুলাল মিয়া (২৬), সুনামগঞ্জ দিরাই ভাটিপাড়ার মফিজ মিয়ার ছেলে সায়েদ নুর (৬০), শান্তিগঞ্জ তলের বনত গ্রামের মৃত আমান উল্লাহ তালুকদারের ছেলে আওলাদ হোসেন তালুকদার (৫০), সুনামগঞ্জের দিরাই পাতাইয়া কাইম গ্রামের জসিম মিয়ার ছেলে একলিম মিয়া (৫০), একই উপজেলার গছিয়া গ্রামের বারিক উল্লাহর ছেলে সিজিল মিয়া (৫৫) ও সিলেট নগরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাদামবাগিচার আব্দুর রহিমের স্ত্রী আমিনা বেগম (৪৩)।
নিহতরা সবাই নির্মাণশ্রমিক বলে জানা গেছে। বুধবার সকাল ছয়টার দিকেসিলেট-ঢাকা মহাসড়কের দক্ষিণ সুরমার নাজির বাজার এলাকার কুতুবপুর নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
এ তথ্য নিশ্চিত করে সিলেট মহানগর পুলিশের দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুদ্দোহা জানান, একটি বড় ট্রাক ও পিকআপের সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিরা সবাই নির্মাণ শ্রমিক। মরদেহ ওসমানী হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে উপ-পরিচালক মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে সিলেট ফায়ার সার্ভিসের সাতটি টিম ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করে। সিলেট ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক সফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, নির্মাণশ্রমিক বহনকারী ডিআই ট্রাকটি ওসমানীনগরের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। নাজিরবাজার এলাকায় পৌঁছালে ঢাকা থেকে সিলেটগামী ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের পর শ্রমিক বহনকারী ডিআই ট্রাকটি সড়কের পাশে পড়ে যায় এবং বড় ট্রাকটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে ১২ জন প্রাণ হারান। আহত ঠিকাদার শের ইসলাম জানান, তিনি ৩০ জন শ্রমিক নিয়ে ট্রাকে করে কাজে যাচ্ছিলেন। পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে তার ভাই সাহেদ নুরও রয়েছেন। শের ইসলাম বলেন, বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডান দিকে এসে আমাদের ট্রাকে ধাক্কা দিয়েছিল




