ছাত্রছাত্রীদের জন্যে ডেডিকেটেড টিভি চ্যানেল চালুর চিন্তা করছে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী

সারাবছর অনলাইনে ছাত্রছাত্রীদের শ্রেণিপাঠ দেয়ার জন্য একটি ডেডিকেটেড টিভি চ্যানেল চালুর চিন্তা করছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জাতীয় সংসদে এ কথা জানান। তিনি বলেন, সারা বছরই যাতে শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে পারে তার একটি ডেডিকেটেড চ্যানেল চালুর বিষয়টি বিবেচনাধীন আছে। জাতীয় সংসদের নওগাঁ-২ আসনের সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান সরকারের এক প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী একথা বলেন। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকের শুরুতেই প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার পরে সরাসরি উপস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুততম সময়ে মধ্যে করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়ার আওতায় নিয়ে আসা হবে। এই টিকা প্রদান কর্মসূচি আবাসিক শিক্ষার্থীদের দিয়ে শুরু হবে। আবাসিক শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার পর হলগুলো খুলে দেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি ক্লাস শুরু হবে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পূরণে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজস্ব সক্ষমতা ও বাস্তবতা অনুযায়ী পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা প্রস্তুত করে তা বাস্তবায়নে কার্যক্রম গ্রহণ করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে একটি গাইডলাইন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে পরীক্ষাও নেওয়া হচ্ছে।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী ইসলামের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। যেসব জেলায় একটিও বিশ্ববিদ্যালয় নেই সেখানে পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। আরেক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তকরণ একটি চলমান প্রক্রিয়া। নীতিমালার আলোকে যোগ্যতার ভিত্তিতে এমপিওবিহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে পর্যায়ক্রমে এমপিওভুক্ত করা হয়ে থাকে। যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত নয় সে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, করোনা মহামারির ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি সংসদকে জানান, ২০ হাজার ৪৯৯ স্কুলের মধ্যে ১৫ হাজার ৬৭৬টি এবং ৪ হাজার ২৩৮টি কলেজের মধ্যে ৭০০টি কলেজে অনলাইন ক্লাস চালু করেছে। স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অনলাইন ক্লাস নেওয়া হচ্ছে।

About bdsomoy