ন্যাশনাল ডেস্কঃ (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় শনিবার বিকালে পুলিশের সঙ্গে ছাত্রদল ও যুবদলকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সাত পুলিশ সদস্যসহ মোট ৩৫ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ পাঁচ জনকে আটক করেছে। পুলিশের আহত সদস্যরা হলেন-সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুভাষ চন্দ্র পাল, পরিদর্শক (ওসি-তদন্ত) আরজুন, উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মামুন, কনস্টেবল সামছুল হক, মো. হারুণ, মো. রফিক ও মো. মফিজ। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
মিছিলে হামলার অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদে আগামী রবিবার সোনাগাজীতে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে উপজেলা ছাত্রদল ও যুবদল। উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও চর চান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামছুদ্দিন হরতাল আহ্বানের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিকালে সোনাগাজী মোহাম্মদ ছাবের পাইলট স্কুল মাঠে উপজেলা ছাত্রদলের একটি পূর্বনির্ধারিত ছাত্র-গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ফেনী-৩ আসনের (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন এতে প্রধান অতিথি ছিলেন।
বিকাল ৪টার দিকে উপজেলা সদরের জিরো পয়েন্টে ছাত্রদল ও যুবদলের মিছিল থেকে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে অভিযোগ তুলে পুলিশ মিছিলকারীদের লাঠিপেটা করে। এতে ছাত্রদল ও যুবদলের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় ছাত্রদলকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে।
জিরো পয়েন্টের পাশে আওয়ামী লীগের কার্যালয় থেকে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা এসে ছাত্রদল ও যুবদলকর্মীদের ধাওয়া করে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষের সময় অন্তত ১৫টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। সংঘর্ষে পুলিশের সাত সদস্যসহ কমপক্ষে ৩৫ জন আহত হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বেশ কয়েকটি কাঁদানে গ্যাসের শেল ও শটগানের গুলি ছোড়ে। পরে ফেনী থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ফেনীর পুলিশ সুপার (এসপি) পরিতোষ ঘোষ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। উপজেলা সদরে পুলিশ ও র্যাবের টহল অব্যাহত রয়েছে।’




