রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার

শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার

ডেস্ক রিপোর্ট (বিডি সময় ২৪ ডটকম)

শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার। ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে সূচনা ঘটছে বাঙালির শারদোৎসবের।দুর্গোৎসব শুরু বৃহস্পতিবার

পাঁচ দিনের এ উৎসব শেষ হবে ১৪ অক্টোবর সোমবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে।

হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় এ ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে সারাদেশে এখন উৎসবের আমেজ বইছে। দুর্গাপূজাকে আনন্দমুখর করে তুলতে দেশজুড়ে বর্ণাঢ্য প্রস্তুতিও শেষ হয়েছে।

পূরাণ মতে, রাজা সুরথ প্রথম দেবী দুর্গার আরাধনা শুরু করেন। বসন্তে তিনি পূজার আয়োজন করায় দেবীর এ পূজাকে বাসন্তী পূজা বলা হয়। কিন্তু রাবণের হাত থেকে সীতাকে উদ্ধার করতে লংকা যাত্রার আগে শ্রী রামচন্দ্র দেবীর পূজার আয়োজন করেছিলেন শরৎকালের অমাবস্যা তিথিতে, যা শারদীয় দুর্গোৎসব নামে পরিচিত। দেবীর শরৎকালের পূজাকে এজন্যই হিন্দুমতে অকাল বোধনও বলা হয়।

সনাতন বিশ্বাস ও পঞ্জিকামতে, জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা এবার দেবী দোলায় (পালকি) চড়ে মর্ত্যলোকে (পৃথিবী) আসবেন। যার ফল হচ্ছে মড়ক। আর বিদায় নেবেন গজে (হাতি) চড়ে। যার ফল হিসেবে বসুন্ধরা সুজলা, সুফলা ও শস্যপূর্ণা হয়ে উঠবে। এবার সারাদেশে প্রায় সাড়ে ২৮ হাজার পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জানিয়েছে।

গতবারের তুলনায় এবার ৮০০ মণ্ডপ বেড়েছে। তবে সরকারি হিসেবে সারাদেশের ২৮ হাজার ২৬৪টি মণ্ডপে পূজা হচ্ছে। ঢাকা মহানগরীর এবারের পূজামণ্ডপের সংখ্যা ২১৪টি, যা গত বছরের তুলনায় ১২টি বেশি।

শারদীয় দুর্গাপূজার প্রথম দিনে আজ ষষ্ঠীতে দশভুজা দেবী দুর্গার বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাস। ষষ্ঠী তিথিতে সকাল ৯টা ৪৮ মিনিটের মধ্যে দেবীর ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ। সায়ংকালে বোধনের মাধ্যমে দক্ষিণায়নের নিদ্রিত দেবী দুর্গার নিদ্রা ভাঙার জন্য বন্দনা পূজা করা হবে। সেই সঙ্গে দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্যদিয়ে শুরু হবে মূল দুর্গোৎসব।

শুক্রবার মহাসপ্তমী, শনিবার মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা, রোববার মহানবমী এবং সোমবার বিজয়া দশমী। শেষ দিনে প্রতিমা বিসর্জন ও বিজয়ার শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।

দুর্গোৎসব চলাকালে পূজায় প্রতিদিনই অঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ ও ভোগআরতির আয়োজন করা হবে। এ ছাড়া দেশজুড়ে দুর্গোৎসব চলাকালে মণ্ডপে মণ্ডপে আলোকসজ্জা, আরতি প্রতিযোগিতা, স্বেচ্ছায় রক্তদান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, নাটক, নৃত্যনাট্যসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।

দুর্গোৎসব উপলক্ষে পৃথক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ, আনসার, র‌্যাব ও বিডিআর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। পুলিশ এবং র‌্যাবের পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী দায়িত্ব পালন করবেন। ঢাকেশ্বরী মন্দির মেলাঙ্গনে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে।

এদিকে শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রাক্কালে বুধবার ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে সংবাদ সম্মেলন করেছে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি। এ সময় সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রশাসনের পদক্ষেপ কামনা করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন নির্মল কুমার চ্যাটার্জী। বক্তব্য রাখেন বাসুদেব ধর ও কাজল দেবনাথ।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ