বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০২৬
প্রচ্ছদচট্রগ্রাম প্রতিদিনপটিয়ার কালারপোলের চাঞ্চল্যকর পান দোকানকদার হত্যার মূলহোতা গ্রেপ্তার, রহস্য উন্মোচন

পটিয়ার কালারপোলের চাঞ্চল্যকর পান দোকানকদার হত্যার মূলহোতা গ্রেপ্তার, রহস্য উন্মোচন

গত ২১ এপ্রিল, ২০২০ খ্রিঃ রাত আনুমানিক ৯:৩০ এর দিকে চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া থানাধীন কোলাগাঁও ইউনিয়নের কালারপোল এলাকায় অবস্থিত আজিজিয়া রেস্টুরেন্টের ভিতরে পানির ড্রামের ভিতরে ওই এলাকার আবদুল মোনাফের ছেলে আবদুল কাদের টুলু (২৬) এর গলায় রশি পেঁচানো এবং মুখ থ্যাতলানো লাশ পাওয়া যায়। এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। আবদুল কাদেরের ওই হোটেলের সামনে পানের দোকান ছিল। ঘটনায় কারো জড়িত থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণ না থাকায় অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে পটিয়া থানায় হত্যামামলা দায়ের হয় (মামলা নং- ০৫, তাং- ২৩/০৪/২০২০ খ্রিঃ, ধারা- ৩০২/২০১ দবি)। এই ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও আসামীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টায় র‍্যাব-৭ ছায়াতদন্ত শুরু করে। র‍্যাব-৭ ব্যাপক গোয়েন্দা তৎপরতা চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত দুইজনকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

এরই ভিত্তিতে আজ ০৪ মে, ২০২০ খ্রিঃ রোজ সোমবার ভোর ০৬:৩০ ঘটিকার সময় র‍্যাব-৭ এর একটি আভিযানিক দল লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ থানাধীন দত্তপাড়া গ্রামের বান বাড়ি থেকে ওই এলাকারই আবদুল মালেক স্বপনের বড় ছেলে মোঃ শাওন সাগর (২১) কে গ্রেপ্তার করে। সে উক্ত হোটেলের কর্মচারী ছিল। গ্রেপ্তারকৃত আসামীকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, কাদেরের সচ্ছল জীবনযাপন দেখে সে এবং তার সঙ্গীয় অপর হত্যাকারীর ধারণা হয় তার কাছে কয়েক লক্ষ টাকা জমা আছে। হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহ আগে থেকে কাদেরকে হত্যা করে তার জমানো টাকাপয়সা নিয়ে পালানোর পরিকল্পনা করে। ঘটনার তিনদিন আগেও তারা একবার রশি এবং চাপাতি নিয়ে কাদেরকে হত্যার চেষ্টা করে। কিন্তু সুযোগ না পাওয়ায় ওইদিন তাদের পরিকল্পনা সফল হয়নি। সবশেষ গত ২১ এপ্রিল, ২০২০ খ্রিঃ (২০ এপ্রিল দিবাগত) রাত আনুমানিক ৩:০০ ঘটিকার সময় হোটেলের ভিতরে টেবিলের উপরে ঘুমন্ত অবস্থায় কাদেরকে তারা দুইজন রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে। এক পর্যায়ে কাদেরের ঘুম ভেঙে গেলে সে চিৎকার করার চেষ্টা করলে তার মুখে এলোপাথাড়ি ঘুষি মারতে থাকে। তাকে ধাক্কা দিয়ে টেবিলের উপর থেকে ফেলে দিলে মুখের এক অংশ থ্যাতলে যায়। তারপর একজন কাদেরের মাথা চেপে ধরে, অপরজন কাদেরের শরীরের উপরে বসে তার মুখের ভিতরে হাত ঢুকিয়ে রাখলে সে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে রশি দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে ড্রামের ভিতরে ঢুকিয়ে কাদেরের কাছ থেকে প্রাপ্ত ৩৫০০ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। র‍্যাব-৭ ঘটনার সাথে জড়িত সাগরের সহযোগীকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ