অদ্য ২৯/১২/২০১৯ ইং তারিখ বিকেল ৩টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে কৃষকের ধানের লাভজনকমূল্য নিশ্চিত করার মাধ্যমে ক্ষুদ্র উৎপাদকদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয় এবং অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেন বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা সংশপ্তক। ধানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত না হলে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকীর মূখে পড়বে, যা দেশের সামগ্রীক উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করবে।
সেমিনারে বক্তারা বলেন কৃষি কাজ এখন আর কৃষকের কাছে নাই, জমিদার শ্রেণীর কাছে কৃষকসমাজ জিস্মি হয়ে গেছে। কৃষি জমির টপ সয়েল কৃষকের কাছ থেকে ইট ভাটার মালিকগণ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। কৃষিপণ্য মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। কৃষিপণ্যে, মার্কেটিং, উৎপাদন, বাজার ব্যবস্থার সাথে সমন্বয় না থাকার কারণে কৃষকরা সঠিক দাম পাচ্ছেনা। কৃষকদের কাছে সরকারীভাবে মূল্য নির্ধারণ না করে উপজেলা ভিত্তিক ধান বিক্রয় উৎসবসহ উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কৃষক নির্বাচন করলে কৃষকরা কৃষিকাজে আরো উৎসাহ বৃদ্ধি পাবে।
চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের এর সভাপতি নাজিম উদ্দিন শ্যামল বলেন, কৃষকরা তাদের কথা বলতে পারছে না। কৃষক সমাজ কোন সময় সামনের সারিতে এসে কথা বলতে পারে না। ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার কারনে কৃষকদের জীবন যাত্রার মান কমছে। যে ভাবে কৃষকরা কৃষি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। ধীরে ধীরে বাংলাদেশ চাল আমদানী নির্ভর দেশ হতে বাধ্য হবে। কৃষিতে প্রতিবছর বাজেট টাকা বরাদ্দ ক্রমান্বয়ে কমছে াজেটে যা বরাদ্দ তাও কৃষক সমাজের কোন উপকারে আসে না। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডঃ মোঃ হারুনুর রশিদ, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ,বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইনষ্টিটিউট বলেন সরকার হচ্ছে কৃষি বান্ধব সরকার, কৃষকের জন্য প্রধানমন্থ্রী সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিবিদ দীপক কুমার দাশ-উপপরিচালক , বিএডিসি, চট্রগ্রাম বলেন কৃষি হচ্ছে আমাদের প্রাচীন ঐতিহ্য, কৃষককে সম্মান ও মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করতে হবে। অর্থনীতির সাধারণ সূত্র মেনেই বাংলাদেশে ধানের দাম কমে গেছে। অর্থাৎ চাহিদার চেয়ে উৎপাদন বেশী হয়েছে। সংকট হলেই চাল আমদানী হয় তার চেয়ে অনেক বেশী। ধানের দাম কমার এটিও একটি কারন। ধানের উৎপাদন বেশী হওয়া ভালো।উৎপাদন কমিয়ে দেওয়া সমাধান নয়। কৃষকসমাজ প্রয়োজনমত ঋণ পান না টাকার জন্য চাতাল ও মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নেন। ধান উৎপাদনের পর তা কমমূল্যে বিক্রি করতে বাধ্য হয়। কৃষকের যদি কৃষি মৌসুমে কৃষিঋণ ব্যাংক থেকে সহজলভ্য হয়, কৃষকরা কৃষিপণ্য উৎপাদনে উৎসাহী হবে।া
সেমিনারে ধারণা পত্র পাঠ করেন কৃষিবিদ মোঃ রফিকুল ইসলাম এবং সেমিনারে বিভিন্ন মতামত তুলে ধরেন সাধারন কৃষকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক এর নির্বাহী সদস্য অগ্রদূত দাশগুপ্ত, সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক বিদ্যুৎ কান্তি নাথ। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংশপ্তক এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার জয়নাব বেগম চৌধুরী (মিতু)




