ন্যাশনাল ডেস্কঃ (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
সাভারে রানা প্লাজার ধ্বংসস্তুপ থেকে ১৭ দিন পর জীবিত উদ্ধার হওয়া গার্মেন্টস শ্রমিক রেশমার জীবন যাত্রার মান বদলে দিয়েছে হোটেল ওয়েস্টিনের চাকুরী। রেশমার পরিবার এখন এগিয়ে চলেছে সোনালী ভবিষ্যতের দিকে।
চলতি বছর ২৪ এপ্রিল ভেঙ্গে পড়া রানা প্লাজার ধ্বংসস্তুপে চাপা পড়ে গার্মেন্ট কর্মী রেশমা। ঐ দুর্ঘটনায় ১১ শতাধিক শ্রমিকের মৃত্যু হলেও অলৌকিকভাবে বেঁচে যায় রেশমা। চাপা পড়ার ১৭ দিনের মাথায় ১০ মে সেনাবাহিনীর উদ্ধারকারী দল জীবিত উদ্ধার করে রেশমাকে। চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে ওঠার পর পাঁচ তারকা হোটেল ওয়েস্টিন কর্তৃপক্ষ তাকে রিসিপশনিস্ট পদে চাকুরী দেন। ৩৫ হাজার টাকা বেতনের ঐ চাকুরী লাভের পর রেশমার এবং তার পরিবারের জীবন যাত্রার মান বদলে যেতে শুরু করেছে।

গার্মেন্টস এ চাকুরী করে রেশমা তার পরিবারকে কিছুই পাঠাতে না পারলেও এখন সে যা পাঠায় তাতেই তার মায়ের সংসার চলে যায় স্বাচ্ছন্দে। আগে সংসার চালাতে তার মাকে অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতে হত। মাথা গোঁজার জন্য ছিল জীর্ণ একটি কুঁড়ে ঘর, বৃষ্টিতে কষ্ট হতো ভীষণ।
এখন সে সব অতীতের দু:স্বপ্ন মাত্র। অতীতের দারিদ্র্যতার অভিশাপ হতে রেশমার পরিবার এখন মুক্ত। মাথা গোঁজার জন্য রেশমা তার গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরের কুশিগাড়ী গ্রামে একটি পাকা বাড়ি নির্মান শুরু করেছেন। এটি নির্মাণে ২ লাখ টাকা দিয়েছে রেশমা তার পরিবারকে।
রেশমার স্বজন সাহিনূর জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় বিভিন্ন ব্যক্তি তাকে যে আর্থিক সহায়তা দিয়েছিলেন, মূলত সেই অর্থ দিয়েই এ পাকা বাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন রেশমার ভাগ্য বদলের ঘটনায় শুধু তার পরিবারই নয়, এলাকাবাসীও আনন্দিত।
রেশমার মা যোবেদা বেওয়া বলেন, রেশমার উন্নতিতে তিনি খবুই খুশি, এজন্য তিনি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন। তিনি রেশমার চাকুরীদাতা পাঁচতারকা হোটেল ওয়েস্টিন কর্তৃপক্ষকে কৃতজ্ঞতা জানান।




