ডেস্ক রিপোর্ট (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
দু’দফা দাবিতে আবারও ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। রোববার বেলা সোয়া ১১টা থেকে পৌনে ১২টা পর্যন্ত এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীরা মাছরাঙা টেলিভিশনের একটি গাড়ি, প্রাইভেটকারসহ বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার পলিটেকনিক শিক্ষার্থীরা কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে ক্যাম্পাস ও গেইটে কর্মসূচি পালন করতে থাকে। এসময় বিপুল সংখ্যক পুলিশ পলিটেকনিকের রাস্তায় অবস্থান নেয়।
তারা আরও জানান, আন্দোলনরত ছাত্ররা রাস্তা অবরোধ করতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পুলিশ বাধা দিলে শিক্ষার্থীরা পুলিশকে তিনদিক থেকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও আক্রমণ শুরু করে। এসময় তারা মাছরাঙা টেলিভিশনের গাড়িসহ বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে। পরে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে তিন রাউন্ড টিয়ারশেল ও ৮-১০ রাউন্ড শর্টগানের ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি। পরে বাংলাদেশ কারিগরি ছাত্র পরিষদ নেতা ও পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টায় শিক্ষার্থীদের শান্ত করে হলে ফিরিয়ে নেয়।
এদিকে, রোববার থেকে পলিটেকনিকের পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও শনিবার সংগঠনের পক্ষ থেকে পরীক্ষা বাতিলের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও কর্তৃপক্ষ তা বাতিল করেনি। ফলে সংগঠনের পক্ষ থেকে সারা দেশের পলিটেকনিকের ছাত্ররা পরীক্ষা বর্জন করে ঢাকা পলিটেকনিকে জড়ো হয়। বাংলাদেশ কারিগরি ছাত্র পরিষদের আহ্বায়ক জাকির হোসেন সাগর ে জানান, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে পলিটেকনিক কলেজের গেটে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলাম। এসময় স্থানীয় কিছু ছেলে পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও গাড়ি ভাঙচুর করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করেছে। পলিটেকনিকের কোনো ছাত্র এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন না বলে জানান জাকির হোসেন।
তিনি বলেন, আজকে (রোববার) বিকেলে পলিটেকনিকের চেয়ারম্যান, ডিজি ও সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমাদের দাবির বিষয়ে বৈঠক হবে। তিনি আরও জানান, ২০০৮ থেকে দু’ দফা দাবিতে আমাদের আন্দোলন চলছে। দাবি পূরণে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস থাকলে কিছু পাকিস্তানপন্থি আমলাদের কারণে দাবি মেনে নেওয়া হচ্ছে না। শুধু তাই নয়, পরীক্ষা বাতিলের আবেদন জানালেও কর্তৃপক্ষ তা মেনে নেননি।
তেজগাঁজ শিল্পাঞ্চল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান ে জানান, শান্তিপূর্ণ কমর্সূচি থেকে ছাত্র নামধারী কিছু সন্ত্রাসী পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বাধ্য হয়ে পুলিশ শর্টগানের গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী বিতর্কিত গেজেট সংশোধন এবং ছাত্র ছাত্রীদের বৃত্তি ও প্রশিক্ষণ ভাতা বৃদ্ধিসহ দুই দফা দাবিতে বাংলাদেশ কারিগরি ছাত্র পরিষদ (বাকাছাপ) আন্দোলন করে আসছে। শনিবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়।




