আদালত প্রতিনিধিঃ (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
আদালত অবমাননা আইন’২০১৩ বাতিল ও অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিতের আবেদন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষ। রোববার সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন করা হয় বলে জানিয়েছেন মূল রিটকারীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ।
তিনি জানান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব এ স্থগিতের আবেদন জানিয়েছেন। তাদের পক্ষে আদালতে আবেদনটি দাখিল করেন অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড মো. বখতিয়ার হোসেন।
গত বৃহস্পতিবার এ আইনের আটটি ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা রিটের শুনানি শেষে পুরো আইনটিকে বাতিল ও অবৈধ ঘোষণা করেন বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি এবিএম আলতাফ হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ।
রায় ঘোষণার সময় আদালত বলেন, এ আইনে কিছু সরকারি কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে, যা বৈষম্যমূলক। এ আইনে আদালতের ক্ষমতাকে খর্ব করা হয়েছে, যা সংবিধানের ২৭, ১০৮ ও ১১২ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। তাই এ আইনটি অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করা হলো।
আদালত বলেন, সংবাদ মাধ্যম একটি বড় শক্তি। আমরা প্রতিদিনই প্রেসের সাহায্য নিই। আমরা প্রেসকে লিমিট করতে চাই না । তবে নিজেদের একটা লিমিট থাকা উচিত।
এদিকে রায়ের পরে অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম বলেছিলেন, এ আইনটি প্রণয়ন করেছে সরকার। আমাদের পক্ষ থেকে আইনটিকে রক্ষার জন্য সর্বাত্মক বক্তব্য আদালতে পেশ করা হয়েছে। তবে আদালত যেটি মনে করেছেন, সেভাবেই রায় দিয়েছেন। এ রায়ের ফলে ১৯২৬ সালে প্রণীত আদালত অবমাননা আইনটি পুর্নবহাল হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি না দেখে কিছু বলা যাচ্ছে না।
প্রসঙ্গত, এ আইনের ৮টি ধারা নিয়ে গত ৩ এপ্রিল রুল জারি করেছিলেন একই বেঞ্চ। বুধবার রুলের চূড়ান্ত শুনানি নেওয়া হয়। ৩ এপ্রিলের জারি করা রুলে হাইকোর্ট আদালত অবমাননা আইনের (সংশোধনী-২০১৩) ৮টি ধারা কেন সংবিধান পরিপন্থী বলে ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছিলেন। ধারা ৮টি হচ্ছে- ৪, ৫, ৬, ৭, ৯, ১০, ১১ ও ১৩(২) নম্বর।
এতে বিবাদী করা হয় মন্ত্রিপরিষদ সচিব, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব এবং আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবকে। ১০ দিনের মধ্যে তাদেরকে এ রুলের জবাব দিতে বলেন আদালত। রিটটি দায়ের করেন অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান সিদ্দিকী ও অ্যাডভোকেট আয়েশা খাতুন। তাদের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ।
অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ পরে সাংবাদিকদের জানান, সংশোধনীর মাধ্যমে নতুন আদালত অবমাননা আইনে কিছু ধারা সংযোজন করা হয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে সংবিধানের ১০৮ অনুচ্ছেদকে অকার্যকর করা হয়েছে। আইনের ৪, ৫, ৬, ৭, ৯, ১০, ১১ ও ১৩(২) নম্বর- এ ৮টি ধারা উল্লেখ করে রিটটি করা হয়।
ধারাগুলো উল্লেখ করে অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ বলেন, এসব ধারায় বলা হয়েছে- কোনো সরকারি কর্মকর্তা অবসর গ্রহণ করলে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলারও অবসান ঘটবে, আদালত অবমাননা মামলার শুরুতেই সরকারি কর্মকর্তাদের আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া যাবে না, আপিল পর্যায়ে আদালত অবমাননায় অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তা ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারবেন, নির্দোষ প্রকাশনা আদালত অবমাননা নয় এবং বিচারকদের খাস কামরায় অনুষ্ঠিত বিচারিক প্রক্রিয়ার তথ্য প্রকাশ আদালত অবমাননা নয়। এসব ধারা সংবিধানের ১০৮ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।




