১৮ এপ্রিল বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা সংশপ্তক ও বিটার যৌথ আয়োজনে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে ভূমিধসের কারণ ও সমাধান অনুসন্ধানের উপর ভিত্তি করে একটি বিজ্ঞান ভিত্তিক “Symposium on exploring solutions: Landslide Susceptibility in Chittagong Region of Bangladesh” বিষয়ক সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত হয় । সিম্পোজিয়ামে ভূমিধস্ বিষয়ক অনুশীলনকারী, পলিসি মেকার বা নীতি নির্ধারক, গবেষকদের কৌশলগত ও পদ্ধতিগত সমন্বিত আলোচনা ও নীতিমালা অনুসরণ ও অনুশীলনের মাধ্যমে একটি কৌশল পত্র প্রনয়নের মাধ্যমে একটি বিজ্ঞান ভিত্তিক ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা তুলে ধরা হয় । এতে বিশেষজ্ঞ বক্তা হিসাবে অংশগ্রহণ করেন চট্টগ্রাম বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় (চুয়েট) এর প্রাক্তন ভাইস চ্যান্সেলর প্রকৌশলী ড. জাহাঙ্গীর আলম, বিশিষ্ট পরিবেশবিদ সংগঠক অধ্যাপক ইদ্রিস আলী, জলবায়ু পরিবর্তন,দূর্যোগ ও ঝুঁকি প্রশমন বিশেষজ্ঞ এম. আবদুর রহমান রানা।
বক্তারা বলেন ভূমিধস্ বাংলাদেশের বিশেষ করে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে নিয়মিত ঝুঁকি হয়ে উঠছে। আর ১৯৬৭ সালের সেপ্টেম্বরের পর থেকে চট্টগ্রামের পাহাড়ী অঞ্চলে ভূমিধস একটি নিয়মিত বিপত্তি হিসেবে ঘটে আসছে। প্রতিবছর বিশেষ করে বর্ষাকালে ভূমিধস্ এই অঞ্চলে ঘটে থাকে। জলবায়ু পরিবর্তন, এবং অদক্ষ প্রকৌশল ব্যবস্থা ভূমিধসের উপর স্থায়ী ভাবে প্রভাব ফেলছে। আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তন,মাটির ক্ষয় প্রবাহের দ্রূত পরিবর্তনের কারণে ভূমিধসের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন ম. আবদুর রহমান রানা। প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম তার আলোচনায় বলেন পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মত পাহাড় ব্যবস্থাপনা করে সৌর বিদ্যুৎ ও মিনি হাইড্রো পাওয়ার উৎপাদনের মাধ্যমে একদিকে দেশের জ্বালানী সংকট মোকাবেলা এবং অন্যদিকে ভুমিধ্বস রোধ সম্ভব। পাশাপাশি ভূমিধস মোকাবেলায় স্বতন্ত্র ফান্ড গঠন করার জন্য পরামর্শ প্রদান করা হয় ।ক্যাব চট্টগ্রামের সভাপতি এস.এম. নাজের হোসাইন এর সভাপতিত্বে এবং সংশপ্তকের প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারী সৌরভ বড়–য়ার সঞ্চালনায় সিম্পোজিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার জনাব মোঃ নুরুল আলম নিজামী।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন : ভূমিধস মোকাবেলায় সরকারের খসড়া নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে ,তবে চুড়ান্ত হয় নি এবং শীঘ্রই এটা চুড়ান্ত হয়ে মহান সংসদে পাশ হবে । তবে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ডিপার্টম্যান্টে অতিব গুরুত্বের সাথে ও আন্তরিকতার সাথে এই বিষয়ে কাজ করছে ।পাশাপাশি ভূমিধস প্রতিরোধে সরকারী বিভিন্ন বিভাগ ও সিটিকর্পোরেশন সমন্বিত বিভিন্ন ্উদ্যোগ গ্রহন করেছে । যাতে আর কারো প্রাণহানি না হয় । তবে এক্ষেত্রে সরকারী বেসরকারী সকলের সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন। আলোচনায় কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জনাব মাহিদুর রহমান বর্তমানে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। এখানে আনুমানিক দুই লক্ষ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ভ’মিধ্বসের সম্মুখীন। তবে সঠিক সংখ্যা নিরুপণ এবং ভূমিধস মোকাবেলায় সমন্বিত গবেষণা ও পরিকল্পনা জরুরী। সিম্পোজিয়ামের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংশপ্তকের প্রধান নির্বাহী লিটন চৌধুরী,আরো উপস্থিত ছিলেন বিটা’র প্রোগ্রাম ম্যানেজার বাপ্পা চৌধুরী ও প্রোগ্রাম অফিসার লিপি মজুমদার এবং সংশপ্তকের কর্মীবৃন্দ।
প্যানেল আলোচক হিসেবে সভায় অংশগ্রহন করেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাহিদুর রহমান, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস.এম. শফি কামাল,খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কাজী মোঃ চাহেল তস্তরী ,চট্টগ্রাম জেলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোঃ আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্টে সোসাইটির সহকারী পরিচালক এ.কে.এম. আজরু উদ্দিন সাফ্দার।
প্যানেল আলোচক বৃন্দ স্ব স্ব জেলার ভূমিধসের অবস্থান প্রবনতা ও দূর্যোগ মোকাবেলায় পরিচালিত কার্যক্রম গুলো তুলে ধরেন। প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহন করেন সাংবাদিক মোস্তফা ইউসুফ, সাংবাদিক মোঃ শফিকুল ইসলাম, সংশপ্তকের মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান,ইপসার ফারাহ আমেনা খাতুন ইয়্যুথ গ্রুপের সদস্য রমিজা সুলতানা প্রমি। এছাড়া ফায়ার সার্ভিস,সিভিল সার্জন, সরকারী ও বেসরকারী সংস্থার প্রধান/প্রতিনিধি,সাংবাদিক ও স্বেচ্ছাসেবক সহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




