রবিবার, আগস্ট ১৬, ২০২৬

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, স্কুল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সরকারি চাকরিজীবীদের চিঠি দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে অনুষ্ঠানে যোগদানে বাধ্য করা হয়েছে। শনিবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় ফখরুল এ কথা বলেন। অ্যাসোসিয়েশন অব ইউনিভারসিটি টিচার্সের কৃষি বিজ্ঞান শাখা এ সভার আয়োজন করে।

বিএনপি নেতা বলেন, বন্যাসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ, আকাশচুম্বী দ্রব্যমূল্যের মধ্যে যেখানে দেশের মানুষ দুর্বিষহ দিন কাটাচ্ছে, তখন ক্ষমতাসীনরা ঢাক-ঢোল বাজিয়ে ৭ই মার্চের ভাষণ উদযাপনে মেতে আছে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার জনগণের কাছে উন্নয়নের অলৌকিক গল্প প্রচার করছে। অন্যদিকে দেশের প্রশাসন, বিচার বিভাগ, গণতন্ত্র ধ্বংস করে তাদের একদলীয় শাসন টিকিয়ে রাখতে লোকদেখানো বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘৭ মার্চের যে ভাষণ,  নিঃসন্দেহে  ঐতিহাসিক ভাষণ। ইউনেসকো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। অস্বীকার কে করেছে? আপনারা এত বছর পর ঢাকঢোল পিটিয়ে নামছেন, তখন কিন্তু দেশের মানুষ কষ্টে আছে। হাওর এলাকাগুলোতে, সিলেটের সুনামগঞ্জে আবার বন্যার পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। আবার চালের দাম ৫০-৬০ টাকা। বলেছিলেন, বিনা পয়সায় সার দেবেন। সারের দাম এখন তিনগুণ আগের চেয়ে। আলোচনায় মির্জা ফখরুল আরো বলেন, লোকদেখানো সরকারি উৎসবে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নেই। তিনি অভিযোগ করেন, নানা অপকৌশল প্রয়োগ করে শাসকদল তাদের অনুষ্ঠানে লোক জমায়েত করে।

বিএনপি নেতা বলেন,  বড় গলায়, সেই বড় বড় অনুষ্ঠান করে, স্কুলের শিক্ষক-ছাত্রদের সরকারি চিঠি পাঠায় যে হাজির হতে হবে, না হলে স্কুলের অনুদান বন্ধ হবে এবং চাকরি চলে যাবে। যখন সরকারি কর্মকর্তাদের চিঠি দেয় যে হাজির না হলে, পাঁচদিন, ছয়দিন অথবা এক মাসের বেতন কেটে নেওয়া হবে। বিশাল বিশাল সমাবেশে মঞ্চের বক্তৃতা করে বলা হয়, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। এ সময় তিনি প্রশ্ন করেন, ‘উন্নয়ন কী? উন্নয়ন হচ্ছে আপনাদের। গুটি কতক মানুষের উন্নয়ন। এর আগে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘকে পাশ কাটিয়ে মিয়ানমারে সঙ্গে চুক্তি করে সমস্যার সমাধান হবে না।

আমীর খসরু বলেন, রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে সরকারের নির্বাচনকে সামনে রেখে নিয়ে কিছু পরিকল্পনা আছে। সেটা হচ্ছে দেশের মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য। একটি চুক্তি করা হয়েছে। সেই চুক্তিতে কতদিনের মধ্যে ফেরত নিয়ে যাবে তার কোনো মেয়াদ তারা দিচ্ছে না। অর্থাৎ একটা ওপেন চুক্তি। অনন্ত কাল ধরে চলতে পারে এবং এটা কিন্তু আওয়ামী লীগের বর্তমান  সরকারের একটা চাতুরিকতা। ভৌটাধিকার ফিরিয়ে দিতে অবাধ সুষ্ঠু সব দলের অংশ গ্রহণে নির্বাচন আয়োজন না করলে এর খেসারত ক্ষমতাসীন দলকে দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন বিএনপি নেতারা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ