টানা তিন দিনের বৃষ্টি ও শঙ্খের জোয়ারের প্রভাবে আনোয়ারায় পানিবন্দী মানুষের কষ্টের শেষ নেই। দুইদিন ধরে উপজেলার চার ইউনিয়নের বহু পরিবারে রান্না হয়নি। প্লাবিত হয়েছে নতুন নতুন এলাকা। এখনো এসব এলাকায় কোন ধরনের সরকারী বেসরকারী ত্রাণ পৌছায়নি। উপজেলা প্রশাসন জানায়, গত দুইদিন ধরে উপজেলার রায়পুর, জুঁইদন্ডী, বরুমচড়া ও বারখাইন ইউনিয়নের ১২ গ্রামে জোয়ারের পানি ওঠানামা করছে। ফলে এসব দুইদিন ধরে এসব ইউনিয়নের বাসিন্দারা দুর্ভোগে পড়েছেন। অপরদিকে, আনোয়ারা সদর, পরৈকোড়া, হাইলধর, বৈরাগ, বারশত, বটতলী ও চাতরী ইউনিয়নের ৩৫ গ্রামে বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এসব গ্রাম থেকে এখনো পানি পুরোপুরি সরেনি। মঙ্গলবারও রায়পুর ইউনিয়নের পূর্ব গহিরা, ঘাটকুল, বারআউলিয়া ও দক্ষিণ সরেঙ্গা, জুঁইদন্ডী ইউনিয়নের পশ্চিম জুঁইদন্ডী, দক্ষিণ জুঁইদন্ডী, পূর্ব জুঁইদন্ডী ও খুরুস্কুল, বরুমচড়ার ভরাচর, বারখাইন ইউনিয়নের দক্ষিণ তৈলারদ্বীপ, তৈলারদ্বীপ ও পূর্ব বারখাইন এলাকায় খোলা বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ করছে।
এর বাইরে উপজেলার চাতরী ইউনিয়নের ডুমুরিয়া, রূদুরা, চাতরী, মহতরপাড়া, কৈনপুরা, কেঁয়াগড়, পরৈকোড়া ইউনিয়নের কৈখাইন, মাহাতা, ভিংরোল, পাটনীকোঠা, পরৈকোড়া, হাইলধর ইউনিয়নের খাসখামা, পশ্চিম হাইলধর, হাইলধর ও দক্ষিণ ইছাখালী ও আনোয়ারা সদর, বৈরাগ ইউনিয়নের উত্তর গুয়াপঞ্চক, বটতলী ইউনিয়নের বটতলী, পূর্ব বরৈয়া, পশ্চিম বরৈয়া, আইরমঙ্গল, বারশত ইউনিয়নের পারকি ও বোয়ালিয়া গ্রাম থেকেও পানি সরেনি। ফলে এসব এলাকার বাসিন্দাদের কষ্টের অন্ত নেই।
এদিকে, মঙ্গলবার রেকর্ড পরিমাণ জোয়ারের কারণে আনোয়ারা উপকূল আবারো প্লাবিত হয়েছে। ভাঙ্গা বেড়িবাঁধ উপচে এবং খোলা বেড়িবাঁধ দিয়ে মঙ্গলবারও পানি ওঠানামা করেছে। এর বাইরে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে, পূর্ব আনোয়ারা থেকে এখনো পুরোপুরি পানি সরতে পারেনি। জানতে চাইলে রায়পুর ইউনিয়নের বাসিন্দা শাহাবুদ্দিন বলেন, পুরো রায়পুরজুড়ে চলছে হাহাকার। এখনো জোয়ার-ভাটায় ভাসছি আমরা। জানিনা, এ কষ্টের শেষ কবে হবে।
উপজেলার জুঁইদন্ডী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোরশেদুর রহমান চৌধুরী খোকা বলেন, শঙ্খের জোয়ারে পুরো ইউনিয়ন তলিয়ে গেছে। ইতিমধ্যে রাস্তা-ঘাট ডুবে আছে। প্রধান সড়কটিও পানির নিচে। সব মিলিয়ে পুরো ইউনিয়নের বাসিন্দারা পোহাচ্ছেন অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) গৌতম বাড়ৈ বলেন, আনোয়ারা উপকূল ও অন্যান্য ইউনিয়নে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। জেলা প্রশাসনসহ উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।




