আসছে বর্ষাকে সামনে রেখে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতিতে পর্যায়ক্রমে পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে মঙ্গলবার থেকে অভিযান শুরু হচ্ছে। সোমবার চট্টগাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি’র ১৬ তম সভায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানান বিভাগীয় কমিশনার রুহুল আমিন। রুহুল আমিন বলেন, কেজিডিসিএল, ওয়াসা ও পিডিবি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলোর বসতিতে কাল থেকে পর্যায়ক্রমে এসব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে কাজ শুরু করবে। “যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজে গাফেলতি করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্ষা শুরু হতে হতে যাতে এসব স্বল্প আয়ের মানুষগুলো বসতি ছেড়ে চলে যায়, সেজন্য এসব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে।”
সভায় মিরসরাই ও সীতাকুণ্ড অঞ্চলে প্রভাবশালীদের পাহাড় কাটার বিষয়টি উঠে আসে। এসব বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান বিভাগীয় কমিশনার। রুহুল আমিন বলেন, সীতাকুণ্ডের জঙ্গল ও সলিমপুরের পাহাড়ে গড়ে উঠা অবৈধ বসতি সরিয়ে তাদের পুনবার্সনের জন্য প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে একটা প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে যেভাবে নির্দেশনা আসবে সেভাবে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সভায় অবহিত করেন বিভাগীয় কমিশনার।
সভায় পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ওয়াসা ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা অংশ নেন। পাহাড়ের ব্যবস্থাপনার কমিটির অনুসন্ধানে নগরীতে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় রয়েছে ৩১টি। ২০০৭ সালের ১১ জুন নগরীর লেবু বাগান, আমবাগান, কুসুমবাগ ও টাংকির পাহাড় এলাকায় পাহাড় ধ্বসে ১২৭ জন নিহত হয়। এরপর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিদের্শনায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারকে আহ্বায়ক করে ১৮ সদস্যের পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির ১৬তম সভায় অন্যদের মধ্যে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মোমিনুর রশিদ আমিন, চট্টগ্রাম মহানগর পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আজাদুর রহমান মল্লিক, চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মো. মাসুদ করিম ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আবদুর রউফ উপস্থিত ছিলেন।




