আমদানি-রপ্তানি পণ্যভর্তি কনটেইনার পরিবহনে ব্যবহৃত প্রাইমমুভার ট্রেইলর মালিক-শ্রমিকদের ধর্মঘট শুরু হয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে আটটা থেকে এ ধর্মঘট শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সদস্যসচিব মো. হুমায়ুন কবির। তিনি জানান, রোববার রাতে সংগঠন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকে ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং সোমবার সকাল সাড়ে আটটা থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মালিক-শ্রমিকরা ক্রসিং এলাকায় জড়ো হয়েছেন।
তিনি জানান, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর দিয়ে ৪০ ফুট দীর্ঘ একেকটি কনটেইনারের ওজন অনেক সময় ৩৩ টনের বেশি হয়। এফসিএল কনটেইনারগুলো বন্দর থেকে সরাসরি আমদানিকারকের ইয়ার্ডে বা কারখানার গুদামে খালাস করা হয়। কিন্তু এ ধরনের ভারী যানবাহনকে দাউদকান্দি ও মেঘনা সেতুর সামনে বসানো স্কেল পার হওয়ার অনুমতি না দেওয়ায় এ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সম্মেলন কক্ষে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সভাপতিত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩৩ টনের বেশি পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। সেই সিদ্ধান্ত মালিক-শ্রমিকরা মেনে নিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য যেসব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় দরকার তা করতে হবে। কোনো সংস্থাকে বিষয়টি জানানো হয়নি। ফলে আমদানিকারকরা বন্দর থেকে গাড়িতে ৩৩ টনের বেশি ওজনের কনটেইনার তুলে দিচ্ছে।
এর আগে গত ২১ আগস্ট থেকে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছিল সংগঠনটি। এক দিন বন্দর থেকে পণ্য খালাস বন্ধ থাকায় সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। পরদিন সিটি করপোরেশনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য চালান এসে পৌঁছেছে এমন একজন আমদানিকারক গভীর উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, পূর্বঘোষণা ছাড়াই প্রাইমমুভার ট্রেইলরের মতো অত্যাবশ্যকীয় পরিবহনের ধর্মঘট দেশের অর্থনীতির অগ্রযাত্রার চাকা থামিয়ে দেবে। এর ফলে কার্যত বন্দর থেকে অফডকে কনটেইনার নিয়ে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেল। একই সঙ্গে রপ্তানি পণ্যভর্তি কনটেইনারগুলোও শিপমেন্টের জন্যে বন্দর জেটিতে আনা যাবে না। যত দ্রুত সম্ভব আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করা উচিত।




