দায়িত্বভার গ্রহণের পর শনিবার প্রথম অফিস করবেন চট্টগ্রামের নতুন জেলা প্রশাসক মো. শামসুল আরেফিন। বৃহস্পতিবার রাতে শামসুল আরেফিনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন বিদায়ী জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন। প্রথমদিন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে পরিচিতি পর্ব ও মতবিনিময় সভায় অংশ নিবেন বলে জানিয়েছেন নবাগত জেলাপ্রশাসক মো. শামসুল আরেফিন। এদিকে, দায়িত্ব হস্তান্তরের পর বিদায়ী জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম ছেড়ে গেছেন। সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ–সচিব হিসেবে তাঁর যোগদানের কথা রয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়– নতুন ও বিদায়ী জেলা প্রশাসক শুক্রবার সারাদিন (সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত) একই সাথে সময় কাটান। দুপুরে নগরীর সিআরবি রেলওয়ে জামে মসজিদে দুজনে একই সাথে জুমার নামাজ আদায় করেন। এরপর সিজেকেএস অফিসে ভোজসভায় অংশ নেন। বিদায়ী জেলা প্রশাসকের বিদায় ও নতুন জেলা প্রশাসকের বরণ উপলক্ষে এই ভোজ সভার আয়োজন করে সিজেকেএস। এরপর বিকেলে সহকর্মীদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সন্ধ্যায় স–পরিবারে বিমানযোগে চট্টগ্রাম ত্যাগ করেন মেজবাহ উদ্দিন। প্রসঙ্গত, গত ২৩ আগস্ট চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিনকে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ–সচিব এবং রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মো. শামসুল আরেফিনকে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক হিসেবে বদলির আদেশ জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বদলির আদেশের পর থেকে বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের সংবর্ধনা সভায় অংশ নেন বিদায়ী জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১০ এপ্রিল মেজবাহ উদ্দিন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আর ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ তিনি শেষ কর্মদিবস হিসেবে অফিস করেন। দায়িত্ব পালনকালে জনসাধারণ সম্পৃক্ত বিভিন্ন ইস্যুতে তড়িৎ উদ্যোগ ও ব্যবস্থাগ্রহণের ফলে অনেকটা ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়তে সমর্থ হন মেজবাহ উদ্দিন। এছাড়া আম–জনতার নির্বিঘ্নে জেলা প্রশাসকের কক্ষে প্রবেশ ও অভিযোগ–আবেদন জানানোর সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে আমলাতান্ত্রিক সেবার ধরনটাও বদলে দিতে সমর্থ হন তিনি। গরীব–অসহায়রাও নির্বিঘ্নে অন্তত তাঁদের অভিযোগ–অনুযোগটুকু ডিসিকে বলার সুযোগ পেয়েছেন। অন্যদিকে, মিডিয়া ও সাংবাদিক বান্ধব হিসেবেও নিজেকে পরিচিত করতে সমর্থ হন মেজবাহ উদ্দিন। এদিক দিয়ে নবাগত জেলা প্রশাসক মো. শামসুল আরেফিনও একই পথে হাঁটবেন বলে প্রত্যাশা চট্টগ্রামবাসীর।




