মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৭, ২০২৬
প্রচ্ছদচট্রগ্রাম প্রতিদিনজাতীয় শোক দিবসে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস নির্মূলের শপথ নেওয়ার আহ্বান

জাতীয় শোক দিবসে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস নির্মূলের শপথ নেওয়ার আহ্বান

জাতীয় শোক দিবসে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস নির্মূলের শপথ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। নগরীর জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান সিটি মেয়র। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪১ তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন,‘শোককে শক্তিতে পরিণত করতে হবে। আজকের এই দিনে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস নির্মূলের শপথ নেওয়া উচিত। জাতীয় শোক দিবসের এই আলোচনা সভায় কেবল প্রধান অতিথিই নয়, সব আলোচকই জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ জঙ্গিবাদের আস্তানা হতে পারে না। বাংলাদেশের মানুষ জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ।

যারা বাংলাদেশ মেনে নিতে চায় না তারাই জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করছে অভিযোগ করে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধুকে হত্যার চক্রান্ত করেছিল পাকিস্তান। কিন্তু তা সফল হয়নি। তাদের ষড়যন্ত্র থেমে ছিল না। কিছু নরপশু ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করলো। এরপর বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ক্ষমতায় বসানো হলো। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি শুরু হলো। ধর্ম নিয়ে রাজনীতির কুফল জাতির উপর চেপে বসে। সেই ধর্ম নিয়ে রাজনীতির কুফল আমরা এখন ভোগ করছি।

ডিআইজি শফিকুল ইসলাম বলেন, সেই ধর্ম ব্যবসায়ীরা আমাদের সন্তানদের ভুল বুঝিয়ে জঙ্গি বানাচ্ছে। যারা বাংলাদেশ মেনে নিতে চায়নি তারাই জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করছে। এ থেকে বের হতে না পারলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়নের চাকা পেছনের দিকে ঘুরানোর চক্রান্ত করা হয়েছিল উল্লেখ করে সিএমপি কমিশনার ইকবাল বাহার বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর পঁচাত্তর পরবর্তী প্রজন্ম স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস জানতে পারেনি। কিন্তু ইতিহাস আড়াল করা যায় না। আজ দেশ সঠিক জায়গায় এসে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, এই দেশ ও মাটি আমাদের। সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস প্রতিরোধ করতে হবে।

পাকিস্তান শাসনের ২৪ বছরের মধ্যে বঙ্গবন্ধু ১৪ বছর জেলে কাটিয়েছেন উল্লেখ করে সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেন, বাঙালি জাতিকে মুক্ত করতে বঙ্গবন্ধু বারবার কারাবরণ করেছেন। দেশের মানুষের জন্য কারাগারকে ভয় করেননি। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল। এরপর দেশ স্বাধীন হলো। স্বাধীনতা বিরোধীরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলো। আমরা দেখলাম এই স্বাধীনতা বিরোধীদের মন্ত্রী বানানো হলো। ‘স্বাধীনতা বিরোধীরা ক্ষমতায় বসে বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলার অনেক চেষ্টা করেছে। কিন্তু ইতিহাস বড়ই নির্মম। কারণ জীবিত মুজিবের চেয়ে মৃত মুজিব আরও বেশি শক্তিশালী। বাংলাদেশে সব ক্ষেত্রে উন্নয়ন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ করতে সেই স্বাধীনতা বিরোধীরা জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটাতে চায়। কিন্তু আমাদের দেশের মানুষ অসাম্প্রদায়িক। তারা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে। তাই অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ কখনো জঙ্গিবাদের আস্তানা হতে পারে না।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার শঙ্কর রঞ্জন সাহা, জেলা পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো.সাহাব উদ্দিন, মহানগর কমান্ডার মো.মোজাফফর আহমদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ