মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৭, ২০২৬
প্রচ্ছদচট্রগ্রাম প্রতিদিনঅভ্যন্তরীণ সংস্কার ও পরিকল্পিত নগর গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছি - আ...

অভ্যন্তরীণ সংস্কার ও পরিকল্পিত নগর গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছি – আ জ ম নাছির উদ্দিন

বিলবোর্ড উচ্ছেদের চেয়ে বেশি সাহস ও দায়িত্ব নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) অভ্যন্তরীণ সংস্কার ও পরিকল্পিত নগর গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছেন বলে মন্তব্য করেছেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। ২৩ জুলাই দুপুরে মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণের এক বছর উপলক্ষে সুপ্রভাত বাংলাদেশ আয়োজিত নাগরিক সংলাপে এ মন্তব্য করেন। চেরাগি পাহাড় মোড়ের সুপ্রভাত স্টুডিও থিয়েটারে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

চসিকের সামর্থ্যের বিষয় বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, আর্থিক সীমাবদ্ধতা আমি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছি। জবাবদিহি নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। ১৯৯০ সালের বিদ্যুৎ বিলও আমার কাছে দাবি করা হচ্ছে। ২০০৫ সালের আমাদের মহিউদ্দিন ভাইয়ের পিরিয়ডের বকেয়া টাকা এখনো ঠিকাদারেরা পাবে। তিন-চার বছরের ওয়ার্ক-অর্ডার নিয়ে ঠিকাদারেরা ঘুরঘুর করছে। তিনি প্রশ্ন করেন, ট্যাক্স বাড়ানো হচ্ছে বলে যারা বিবৃতি দিয়েছেন, মিথ্যাচার করেছেন তাদের কি মিডিয়া তিরষ্কার করেছেন?

সমালোচনা সহজ উল্লেখ করে মেয়র বলেন, চসিকের মতো একটি প্রতিষ্ঠান কীভাবে চলবে সেই অর্গানোগ্রাম নেই। আমাকে ধারণা দেওয়া হয়েছিল চসিকের অর্গানোগ্রাম ১৯৮৮ সালে অনুমোদিত। বাস্তবতা হচ্ছে এর সপক্ষে কোনো কাগজপত্র তন্ন তন্ন করেও পাওয়া যায়নি। ১৯৬৮ সালের অর্গানোগ্রামেই চসিক চলছে। অস্থায়ী পদে জনবল নিয়োগ দিচ্ছি। চাকরির নিশ্চয়তা না থাকলে যোগ্য লোক তো পাওয়া যাবে না। প্রতিদিনই অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, চসিকে চরম দুর্নীতি ছিল। অনিয়ম ছিল। রাস্তায় প্রলেপ দিয়ে টাকা তুলে নেওয়া হতো। সুপারভাইজার ফিল্ডে যায় না। প্রকৌশলী যায় না। ঠিকাদার নয়ছয় করতো। অনিয়ম বন্ধ করে দিলে সাময়িক স্থবিরতা নেমে আসছে। এ সংস্কৃতি থেকে রাতারাতি চসিককে বের করে আনতি পারছি না।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যে প্রধান প্রকৌশলী এসেছে চসিকে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি বৃষ্টি চলাকালীন কোনো উন্নয়ন কাজ করবো না। নকশা, ড্রয়িং, ডিজাইন, স্টিমেট বিধিবিধান অনুযায়ী করে দরপত্র আহ্বান করবো। রাস্তা যেটি করবো ভারী যানবাহনের চাপ ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় নিয়ে করবো। নভেম্বর-মার্চের মধ্যেই উন্নয়নকাজ করবো। ইতিমধ্যে চলতি বছরের মার্চে ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়ার পরও রয়েল রোড, নন্দনকানন, আগ্রাবাদে ঠিকাদার একটি বালুও ফেলেনি।

মেয়র বলেন, একটি নিশ্চয়তা দিচ্ছি বিলবোর্ড আর উঠবে না। ২০১৯ সালের মধ্যে নগরীর সব সড়ক কার্পেটিং করা হবে। চলতি অর্থবছরে ৩২-৪২ শতাংশ কার্পেটিং হবে। অনেক মেয়র এসেছে গেছে কেউ মাস্টারপ্ল্যানের চসিক অংশটুকু বাস্তবায়ন করেনি। জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন খালটি শিগগির খননকাজ শুরু হবে। আরও দুটি খাল খননের ডিপিপি তৈরি করা হচ্ছে। পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও সংসদ সদস্য জিয়াউদ্দিন বাবলুর সঙ্গে আলাপ করে মদুনাঘাট থেকে নেভাল পর্যন্ত নদীর পাড়ে বেড়িবাঁধ ও দুই লেনের সড়ক, ২৬টি খালের মুখে স্লুইসগেট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নালা-নর্দমাগুলো সার্বক্ষণিক পরিষ্কার রাখার উদ্যোগ নিয়েছি। তাই এবার জলাবদ্ধতা ভয়াবহ রূপে দেখা যায়নি। অল্প সময়ের মধ্যে পানি নেমে গেছে।

মেয়র বলেন, তিন বছরের মধ্যে পুরো শহরকে আলোকিত করা হবে। পাহাড়ঘেরা এ শহরের সবচেয়ে বড় সমস্যা সিলট্রেশন। অপরিকল্পিত কর্তনে পাহাড়গুলো ন্যাড়া হয়ে গেছে। শুধু বৃষ্টির সময় যে সিলট্রেশন হচ্ছে তা নয়, বাতাসেও পাহাড়ক্ষয় হচ্ছে। তাই জাইকার অর্থায়নে পাহাড়ধসে প্রাণ ও সম্পদহানি রুখতে গাইডওয়াল তৈরির উদ্যোগ নিচ্ছি। আমি থেমে নেই। স্থবির নই। কাউকে ছাড় দিচ্ছি না। কঠোর থেকে কঠোরতর ভূমিকা রাখতে চাই। সঞ্চালনায় ছিলেন সুপ্রভাত বাংলাদেশের উপদেষ্টা সম্পাদক কবি আবুল মোমেন।

তিনি বলেন, মেয়র একটি নগরের কেন্দ্রীয় ব্যক্তি। নগরকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে না তুললে সমস্যা থাকে। চট্টগ্রাম ব্রিটিশ আমলে মিউনিসিপ্যালটি হয়েছে। পাকিস্তানের মাঝামাঝিতে সিডিএ হয়েছে। নগরবাসীর প্রত্যাশা মেয়রের কাছে অনেক বেশি।

স্বাগত বক্তব্য দেন সুপ্রভাত বাংলাদেশ সম্পাদক রুশো মাহমুদ। তিনি বলেন, বৈষয়িক সমৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন চাই। নগর সম্প্রসারিত হলেও অনেক ওয়ার্ড এখনো মফস্বলীয়। সংলাপে অংশ নেন ইউএসটিসির উপাচার্য ডা. প্রভাত চন্দ্র বড়ুয়া, চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম, ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের সভাপতি আলী আশরাফ, পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের সহসভাপতি প্রকৌশলী সুভাষ বড়ুয়া, সম্পাদক স্থপতি জেরিনা খান, সনাক সভাপতি অ্যাডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী, উদীচীর কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ডা. চন্দন দাশ, নাট্য ব্যক্তিত্ব প্রদীপ দেওয়ানজী, বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহসভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী, ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব মোজাম্মেল হক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কিউরেটর ড. শামসুল হোসাইন প্রমুখ।

মাহবুবুল আলম বলেন, চট্টগ্রাম হচ্ছে দেশের প্রবেশদ্বার। কমার্শিয়াল হাব। বিশ্বমানের বন্দর যেখানে আছে সেখানে বিশ্বমানের নগরী দরকার। এর জন্যে বিশ্বমানের একজন নেতা দরকার। আমরা জলাবদ্ধতাবিহীন নগরী চাই। ব্যবসাবান্ধব নগরী চাই। বিজিএমইএকে গার্মেন্টস পল্লি করার জন্যে মেয়র জায়গা দিয়েছেন। চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিদিন ২-৩ হাজার ট্রাক-লরি আসে সেগুলো রাস্তার ওপর কিংবা অলিগলিতে থাকে। একটি স্থায়ী ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণে মেয়রকে এগিয়ে আসতে হবে। আলী আশরাফ বলেন, বিলবোর্ড উপড়ে ফেলার পর মেয়রের কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই। আরএস, সিএস অনুযায়ী খালের জায়গা খালকে ফেরত দিতে হবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ