বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬
প্রচ্ছদচট্রগ্রাম প্রতিদিনপুনর্বাসন ছাড়া ভিটেমাটি ছাড়বো না

পুনর্বাসন ছাড়া ভিটেমাটি ছাড়বো না

পুনর্বাসন না করলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) আউটার রিং রোড প্রকল্পের অধীন ফিডার রোডের জন্যে বাপ-দাদার ভিটেমাটি ছাড়বেন না বলে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন এলাকাবাসী। ১৩ মে মেয়র পতেঙ্গার বেড়িবাঁধ এলাকায় প্রস্তাবিত ফিডার রোড এলাকা দেখতে গেলে এলাকাবাসী এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। প্রচণ্ড বৃষ্টি উপেক্ষা করে মেয়র এলাকাবাসী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে হেঁটে হেঁটে পুরো এলাকা ঘুরে দেখেন।

সাবেক কাউন্সিলর ও পুনর্বাসন কমিটির সদস্যসচিব মোহাম্মদ আসলাম বলেন, সিডিএ জাইকার অর্থায়নে আউটার রিং রোড প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এ প্রকল্পের অধীন দুটি ফিডার রোড করার জন্যে ১০৫ পরিবারের ১২ কানি জায়গা হুকুম দখল করছে। এ অঞ্চলের মানুষে ইপিজেড, স্টিলমিল, বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালসহ সরকারি স্থাপনার প্রয়োজনে পুনর্বাসনের ভিত্তিতে বাপদাদার ভিটেমাটি হস্তান্তর করেছিল। রিং রোড প্রকল্পের জন্যে পুনর্বাসন খাতে ৫২ কানি জায়গা হুকুমদখল করে বালু ভরাট করা হয়েছে। কিন্তু ফিডার রোডের জন্যে অধিগ্রহণ করতে চাওয়া ১০৫ পরিবারকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ না নিয়ে বাপ-দাদার ভিটেমাটি বুঝে নিতে চাইছে সিডিএ। ইতিমধ্যে ৩ ধারা এবং ৬ ধারায় নোটিশ ইস্যু করেছে। ৭ ধারায় নোটিশ দিলে ভিটেমাটি ছেড়ে দিতে হবে। যা হবে অমানবিক, জুলুমের শামিল। কিন্তু আমরা পুনর্বাসন ছাড়া ভিটেমাটি ছাড়বো না। এ সিদ্ধান্তে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

তিনি জানান, ইতিমধ্যে আমরা জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন, সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম ও মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনকে এ বিষয়ে স্মারকলিপি দিয়েছি। সবশেষে মেয়র মহোদয়কে সরেজমিন বিষয়টি দেখতে অনুরোধ জানালে তিনি সাড়া দিয়েছেন। বৃষ্টিবাদল মাথায় নিয়ে তিনি এসেছেন।

এ সময় ২১ নম্বর জামাল খান ওয়ার্ড কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন, পুনর্বাসন আন্দোলনের সভাপতি ইউনুছ সওদাগর, ফরিদুল আলম, সাবেক কাউন্সিলর আবদুল বারেক কোম্পানি, জাবেদুল ইসলাম শিপন, ইকবাল জাহাঙ্গীর, জাহিদ হোসেন, মুছা আলম, মো. জাফর, মো. আলাউদ্দিন, মো. রুবেল, হাসি মিয়া, ইউনুছ সওদাগর, সাহাব উদ্দিন, মো. শরিফ, আকতার হামিদ, রায়হান রানা, মো. সেলিম, মো. হারুন, মো. রফিকসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ক্ষতিগ্রস্তদের দাবিগুলো আন্তরিকতার সাথে শুনেন এবং এ বিষয়ে সিডিএ কর্তৃপক্ষের সাথে বৈঠক করে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও স্থায়ী পুনর্বাসনে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এর আগে মেয়র জাইকার অর্থায়নে চলমান এয়ারপোর্ট রোড ও সীবীচ রোডের উন্নয়নকাজের অগ্রগতি এবং ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের অস্থায়ী কার্যালয়ও পরিদর্শন করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ