১২ জেলায় শুক্রবার বজ্রপাতে আরও ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রাজবাড়ীতে তিনজন এবং চট্টগ্রাম, নওগাঁ, টাঙ্গাইল ও জয়পুরহাটে দুজন করে মারা গেছেন। এ ছাড়া রাজশাহীতে বৃহস্পতিবার বজ্রপাতে আহত একজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবারের বজ্রপাতে টাঙ্গাইলে আরও দুজন এবং নওগাঁয় আরও একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ নিয়ে দুদিনের বজ্রপাতে সারা দেশে মোট ৫৭ জনের প্রাণ গেল। ঢাকার বাইরে নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
রাজবাড়ী: শুক্রবার দুপুরে বজ্রপাতে জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার ওমেদ বেপারীপাড়ার সোবহান সরদার (৫০), কালুখালী উপজেলার হরিণবাড়িয়া গ্রামের বিল্লাল হোসেন ব্যাপারী (৪০) ও ভাগলপুরের জাহের আলী শেখ (৪৫) মারা যান। এ ছাড়া গোয়ালন্দের ছোটভাকলা ইউনিয়নের ভাগলপুরে এক শিশু ও দুই নারী আহত হয়েছেন।
নওগাঁ: জেলায় গত বৃহস্পতিবার ও আজ শুক্রবার বজ্রপাতে তিনজন মারা গেছে। এর মধ্যে শুক্রবার সকালে মারা গেছে মহাদেবপুর উপজেলার ধনঞ্জইল গ্রামের শচীন মহুরী (৪৮) ও পোরশা উপজেলার দীঘিপাড়া গ্রামের ইব্রাহিম হোসেন (১৪)। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মারা গেছেন আত্রাই উপজেলার বিষা উত্তর গ্রামের জয়নাল উদ্দিন (৬৫)।
চট্টগ্রাম: নগরের শহর রক্ষা বাঁধের রাসমণি ঘাট এলাকায় ও আনোয়ারা উপজেলায় গতকাল সকালে বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলো দক্ষিণ কাট্টলীর হোসেন চৌধুরী বাড়ির নিজাম উদ দৌলার ছেলে আমজাদ আলী (২৩) ও আনোয়ারার বদলপুরা গ্রামের আবুল হোসাইনের ছেলে স্কুলছাত্র গিয়াস উদ্দিন (১৭)।
টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলের তিন উপজেলায় দুদিনে বজ্রপাতে চারজন মারা গেছে। তাদের মধ্যে শুক্রবার সকালে মারা গেছে ভূঞাপুর উপজেলার খড়ক গ্রামের আবদুস ছালামের ছেলে আনিসুর রহমান (১৪) ও পলিশার মোকলেছুর রহমানের মেয়ে লিমা (১৩)। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মারা গেছে কালিহাতীর শল্লা ইউনিয়নের আনালিয়া বাড়ি এলাকায় ধানকাটার শ্রমিক কাদের তরফদার (৪৬) ও সখীপুর পৌর শহরের গড়গোবিন্দপুর মাজারপাড় এলাকায় ১০ বছরের অজ্ঞাত এক শিশু।
জয়পুরহাট: সদর ও ক্ষেতলাল উপজেলায় বোরো ধান কাটার সময় শুক্রবার সকালে বজ্রপাতে দুই শ্রমিক মারা গেছেন। তাঁরা হলেন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ঢেঁকেরপাড় গ্রামের রফিকুল ইসলাম (৩৫) ও ক্ষেতলালের ঘুগইল গ্রামের মানিক মিয়া (৩৮)।
সাভার (ঢাকা) : পৌর এলাকার রেডিও কলোনি বালুর মাঠে দুপুরে বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলার সময় বজ্রপাতে মন্টু হোসেন (১৫) নামে এক কিশোর আহত হয়। মুমূর্ষু অবস্থায় স্থানীয় এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মন্টু মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার আমতলি গ্রামের মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে।
তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ) : তাড়াইলের নয়াপাড়ায় কাঁচা রাস্তা এলাকায় দুপুরে বজ্রপাতে এমরান মিয়া (২৮) মারা গেছেন। তিনি নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার গগডা গ্রামের বাসিন্দা নূর ইসলামের ছেলে। নয়াপাড়ায় তাঁর শ্বশুরবাড়ি। তিনি ঘুরতে বের হয়েছিলেন।
সুনামগঞ্জ: জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলি ইউনিয়নের কামারখাল গ্রামে সকালে বাড়ির পাশে হাওরে কাজ করার সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন আমির উদ্দিন (৩০)।
গাইবান্ধা: সদর উপজেলার খোর্দ্দমালিবাড়ি গ্রামে সকালে জমিতে ধান দেখতে গিয়ে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলে মারা যান সিরাজুল হক (৬০) নামের এক কৃষক।
চাঁদপুর: মেঘনা নদীর মোহনায় দুপুরে মালবাহী ট্রলারে বজ্রপাতে নবীর হোসেন (২৫) নামের এক শ্রমিক মারা গেছেন। আহত হয়েছেন ওসমান (৫০) ও রাকিব (২৪) নামের দুই ব্যক্তি। নবীর লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর থানার চরপলকন গ্রামের মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে।
মাগুরা: সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কাপাশহাটি গ্রামে বাড়ির পাশে খেতে সন্ধ্যায় কাজ করার সময় বজ্রপাতে আহত হন তুহিন শেখ (২২)। মাগুরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
যশোর: সদর উপজেলার সুজলপুর গ্রামে বজ্রপাতে বিকেলে ইয়ার আলীর (৭০) মৃত্যু হয়েছে। পুলিশের সূত্র বলেছে, বিকেলে বৃষ্টি শুরু হলে ইয়ার আলী স্ত্রী আলেয়া বেগমকে (৬৫) নিয়ে বাড়ির পাশের মাঠে গরু আনতে গেলে বজ্রপাতে দুজনেই গুরুতর আহত হন। তাঁদের যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে ইয়ার আলীকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। এ ছাড়া বজ্রপাতে আহত হয়েছেন যশোর শহরের বারান্দিপাড়ার আলাউদ্দিন বিশ্বাসের স্ত্রী নাজমা বেগম (৪৫)।
রাজশাহী: মোহনপুরে বৃহস্পতিবার বজ্রপাতে আহত ফেরদৌসী খাতুন (৩৮) ওই দিন গভীর রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তাঁর বাড়ি ঘাষিগ্রামে। এ নিয়ে রাজশাহীতে বজ্রপাতে মারা গেলেন ছয়জন।




