মহান ত্যাগের মহিমায় উদ্ভসিত হয়ে মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করে যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাব গাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সারা দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে দেশের মুসলিম সম্প্রদায় তাদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা উদযাপন করছে। ঘরে ঘরে ত্যাগের আনন্দে মহিমান্বিত হয়েছে মন।শুক্রবার সকালে ঈদের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায়ের জন্য সারাদেশের মুসল্লিরা স্থানীয় ঈদগাহ বা মসজিদে সমবেত হন। ধনী-গরিবের ভেদাভেদ ভুলে সবাই এক কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন।নামাজ শেষে নিজের পাপমোচন এবং পরিবার-পরিজন, দেশ ও মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া চেয়ে আল্লাহর দরবারে মোনাজাত করেন। এর পাশাপাশি সৌদি আরবের মিনায় পদপিষ্ট হয়ে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দেশের বিভিন্ন ঈদগাহে মোনাজাত করা হয়।এরপর হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর মহান আত্মত্যাগের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজের ভেতরের পশুত্বকে পরিহার ও আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের আশায় পশু কোরবানি করেন তারা।পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল, কারাগার, ও সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়।ত্যাগের মহিমা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে রাজধানী ঢাকার মুসলিম সম্প্রদায় ঈদের নামাজ আদায় ও পশু কোরবানীর মাধ্যমে তাদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা উদযাপন করছে।গত কয়েক দিনের মুষলধারের বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার অবসান ঘটিয়ে আজ সকাল থেকেই আকাশ মেঘমুক্ত ও রোদ্রোজ্জ্বল থাকায় রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্যদিয়ে ধর্মীয় এ উৎসব উৎযাপন করছে। শঙ্কামুক্তাবস্থায় মুসুল্লিরা ঈদগাহ, মসজিদ ও খোলা মাঠে নামাজ আদায়ের পর পশু কোরবানী করেছেন।ঢাকায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৮টায় সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ দেশের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে সেখানে ঈদের নামাজ আদায় করেন।জাতীয় ঈদগাহের প্রধান জামাতে মন্ত্রিসভার সদসবৃন্দ, সুপ্রীমকোর্টের বিচারকগণ, সংসদ সদস্যগণ, সিনিয়র রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন মুসলিম দেশের কূটনীতিকগণসহ সর্বস্তরের হাজার হাজার মানুষ উৎসব আমেজে নামাজ আদায় করেন।নামাজ শেষে রাষ্ট্রপতি উপস্থিত সকলের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান ঈদ জামাতে ইমামতি করেন। নামাজ শেষে দেশের শান্তি ও উন্নয়ন, জনগণের কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর ঐক্য কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।প্রতিবারের মতো এবারও দেশের বৃহত্তম ঈদের জামাত হয়েছে কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে। শোলাকিয়ায় এবার ১৮৮তম ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ৯ টায় জামাত শুরু হয়।জামাতে ইমামতি করেন কিশোরগঞ্জ শহরের শামসুদ্দিন ভূইয়া মারকাজ মসজিদের ইমাম মাওলানা হিফজুর রহমান খান। নামাজ শেষে মুসলিম উম্মার শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া করা হয়।বরিশালে ঈদের প্রধান জামাত হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৮ টায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধান জামাতে ইমামতি করেন স্টীমারঘাট জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা শিহাব উদ্দিন।এছাড়াও সকাল ৯টায় চরমোনই পীরের দরবার শরীফে ঈদের সর্ব বৃহৎ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে প্রায় অর্ধ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান নামাজ আদায় করেন।যথাযোগ্য মর্যাদা মধ্য দিয়ে শুক্রবার সারাদেশের ন্যায় রংপুরে মুসলিম সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে। ঈদুল আযহা’র প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় নগরীর কেন্দ্রীয় কালেক্টেরেট ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।এখানে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মোঃ মসিউর রহমান রাঙ্গা এমপি, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মুক্তিযোদ্ধা সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সাধারণ) কাজী হাসান আহমেদ, রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মমতাজ উদ্দিন আহমেদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সর্ব স্তরের হাজার হাজার মুসল্লিগণ এই ঈদ জামাতে নামাজ আদায় করেন।এছাড়াও জেলার রংপুর সদর উপজেলা ও মিঠাপুকুর উপজেলা পরিষদ ঈদগাহে এবং পীরগাছা কারবালা মাঠ, তারাগঞ্জ চৌপথী ঈদগাহ ও গঙ্গাচড়ার পাইকান জামে মসজিদ, কাউনিয়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহ, গঙ্গাচড়া ও পীরগঞ্জে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ, বদরগঞ্জের চান্দামারী কারামতিয়া ঈদগাহে সাড়ে ৯টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারও জেলার সর্ববৃহৎ ঈদ-উল-আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয় গঙ্গাচড়া উপজেলার তালুক হাবু ঈদগাহ ময়দানে।কুষ্টিয়া কোর্টপাড়াস্থ কেন্দ্রীয় ঈদগাহসহ একসাথে ১২৫টি স্থানে পবিত্র ঈদুল আজহা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৮টায় কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহে ঈদের প্রথম নামাজ অনুষ্টিত হয়েছে। এ নামাজে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাবাবুব-উল আলম হানিফ এমপিসহ সর্বস্তরের মানুষ নামাজে অংশ গ্রহণ করেন।শরীয়তপুর জেলায় প্রায় ২৫৫টি ছোট বড় ঈদগাহে ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলার প্রধান জামাত সকাল ৮টায় শরীয়তপুর পৌর ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শুক্রবার জয়পুরহাট জেলায় ১৬০টি ঈদগাহে ঈদুল আযহার নামাজ আদায় করা হয়েছে। জয়পুরহাটে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে।খাগড়াছড়ি থেকে বাসস সংবাদদাতা জানান, পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং দেশের কল্যাণ কামনার মধ্য দিয়ে সারাদেশের মতো পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি জেলায়ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হয়েছে।বৃষ্টির কারণে সকাল ৮টায় কেন্দ্রীয় ঈদগাঁ মাঠের পরিবর্তে কেন্দ্রীয় শাহী জামে মসজিদে প্রথম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জেলার সাতটি উপজেলার শাহী জামে মসজিদ গুলোতে সুন্দর ও শান্তি পুর্ন উপায়ে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।ব্যাপক উৎসাহ উদ্দিপনার মধ্যদিয়ে নড়াইলে ঈদুল আজহা পালিত হয়েছে। নড়াইলে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৮ টায়। ঈদের জামায়াতে ইমামতি করেন মুফতি মাওলানা আশরাফ আলী। ঈদের প্রধান জামাতে অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।এছাড়াও চট্টগ্রাম, রাজশাহী, মাগুড়া, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, দিনাজপুর, পটুয়াখালি, মুন্সিগঞ্জ, খুলনা, বাগেরহাট, বগুড়া, নাটোর, সিলেট, জামালপুর, পঞ্চগড়, রাজবাড়ী, টাঙ্গাইল, নারায়নগঞ্জ, ফেনী, মাগুড়া, যশোরসহ সারাদেশের জেলা উপজেলায় যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাব গাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে।



