ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে পশু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিভিন্ন সংগঠনের নামে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) একেএম হাফিজ আক্তার। এসব চাঁদাবাজি বন্ধে জিরো টলারেন্স দেখানো হবে বলে জানিয়েছেন এসপি। রোববার দুপুরে ঈদুল আযহা উপলক্ষে চট্টগ্রামের পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসপি এসব বিষয় জানান।
তিনি বলেন, শ্রমিক সংগঠন হোক কিংবা যে কোন সংগঠনের নেতাকর্মী হোক, পুলিশ কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা-কেউ গরুর গাড়ির দিকে চোখ তুলে তাকাবেন না। প্রতিবারের মত এবারও আমরা চাঁদাবাজির বিষয়ে জিরো টলারেন্সে আছি। বিভিন্ন জায়গা থেকে পশু ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, তারা চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন। শহরের অলংকার মোড়ে, মিরসরাইয়ের বারইয়ার হাট, সীতাকুণ্ডের কালু শাহ মাজারসহ কয়েকটি জায়গায় বিভিন্ন সংগঠনের নামে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। পশুবোঝাই গাড়ি বিভিন্ন জায়গায় আটকে শ্রমিক সংগঠনের নামে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পেয়েছি। এ ব্যাপারে আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য হচ্ছে, কোন সংগঠনের নামে চাঁদা আদায় করা যাবেনা। ’ বলেন এসপি। গতবার লোহাগাড়া উপজেলার দিকে এ ধরনের পশুবোঝাই গাড়িতে ব্যাপক চাঁদাবাজি হয়েছিল। এবার শহরের দিকে বেশি হচ্ছে বলে শুনেছি। ’ বলেন এসপি।
তিনি বলেন, কেউ চাঁদাবাজির শিকার হলে মোবাইলে ছবি তুলে আমাকে দেন। ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালীতে চাঁদাবাজির শিকার হলেও আমাকে ছবি দেন। আমি ব্যবস্থা নেব। এসপি বলেন, এবার তো মায়ানমার থেকে অনেক গরু আসছে। সেগুলো সরাসরি ঢাকায় যাচ্ছে। পশুর ট্রাককে অনেক সময় সীতাকুণ্ড কিংবা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বাজারের সামনে থামিয়ে সেখানে গরুগুলো নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে বিক্রিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এ ধরনের মাস্তানি আমরা সহ্য করব না। বেপারির যেখানে ইচ্ছা তিনি সেখানে তার গরু বিক্রি করতে পারবেন। কেউ লাঠিসোঠা দিয়ে তার গাড়ি থামিয়ে তাকে যেখানে ইচ্ছা সেখানে বিক্রিতে বাধ্য করতে পারবেন না। এ ধরনের মাসতানি বরদাশত করা হবেনা। ’ বলেন এসপি।
এসপি জানান, ঈদুল আযহায় ঘরমুখো যাত্রীদের নির্বিঘ্নে যাতায়াত এবং পশুবোঝাই গাড়ির নির্বিঘ্নে চলাচল ও দুর্ঘটনা রোধে এবার পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে। জেলা পুলিশের সঙ্গে থাকছে র্যাব এবং হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরাও। সভায় পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতারা নিজেদের বিভিন্ন মতামত তুলে ধরেন।
এসময় চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) হাবিবুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) মুহাম্মদ নাঈমুল হাছান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) মো.শহীদুল্লাহসহ র্যাব, সিএমপি, বিআরটিএ, সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




