সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়ভারতে গিয়ে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার নার্গিসের ময়না তদন্তের নির্দেশ

ভারতে গিয়ে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার নার্গিসের ময়না তদন্তের নির্দেশ

ভারতে গিয়ে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার বাংলাদেশের নার্গিস বেগমের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়না তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। নার্গিসের মরদেহের ময়না তদন্ত চেয়ে করা একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রোববার এ আদেশ দেন বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস জানান, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশকে নার্গিসে মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়না তদন্ত করে ১৬ জুনের মধ্যে ময়না তদন্তের প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই দিনের মধ্যে ভারত থেকে নার্গিসের মরদেহ বাংলাদেশে হস্তান্তরের সময় পাওয়া কাগজপত্র দাখিল করতে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন।

গত ২০ মে নিহত নার্গিসের মামী রাহেলা বেগম ও মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এ রিট আবেদনটি দায়ের করেন  মানবাধিকার কর্মী  ও আইনজীবী এলিনা খান। নিহত নার্গিস বেগমের মরদেহের ময়না তদন্ত ছাড়াও ভারত থেকে নার্গিসের মরদেহ বাংলাদেশে হস্তান্তরের সময় দেওয়া প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিলের নির্দেশনা চাওয়া হয় রিট আবেদনে। স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, খুলনার জেলা প্রশাসক(ডিসি) এবং খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সোনাডাঙ্গা থানার এক উপ-পরিদর্শককে(এসআই)রিটে বিবাদী করা হয়।

রিটকারী এলিনা খান শুনানি বলেন, নিহত নার্গিসের মরদেহ হস্তান্তরের সময় কি বলে হস্তান্তর করা হয়েছে, কোনো কাগজপত্র দেওয়া হয়েছে কি-না, তাতে কি উল্লেখ করা হয়েছে, কিভাবে নার্গিসের মৃত্যু হয়েছে, এটা আমাদের জানা দরকার। এটা জানতেই আদালতের কাছে ময়না তদন্তের নির্দেশনা চান এই আইনজীবী। নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নিজের ও জন্মান্ধ মায়ের চিকিৎসার জন্য ১০ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে খুলনার নার্গিস বেগম গত ৯ মার্চ ভারত যান। চিকিৎসা শেষে আজমির শরিফও ঘুরে আসার ইচ্ছা ছিল তাদের। গত ১০ মার্চ তারা কলকাতার হাওড়া স্টেশন থেকে দিল্লির উদ্দেশে ট্রেনে ওঠেন। ট্রেনটি কানপুর পৌঁছালে কয়েকজন যুবক দিল্লি এসে গেছে বলে তাদের ট্রেন থেকে নামিয়ে আনে। পরে নার্গিসকে প্লাটফর্মে আটকে রেখে তার মা-মেয়েকে জোর করে ওই ট্রেনে তুলে দেওয়া হয়। এরপর ট্রেন ছেড়ে দিলে পরিবারের সদস্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন নার্গিস। পরবর্তী সময়ে ভারতীয় লোকজনের সহায়তায় বাংলাদেশে ফেরেন নার্গিসের মা ও মেয়ে।

নার্গিসের পরিবার গত ১৯ মার্চ সোনাডাঙ্গা পুলিশের কাছ থেকে জানতে পারে, নার্গিস মারা গেছেন। তার মরদেহ ভারতের উত্তর প্রদেশের বাধান রেলস্টেশনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে গত ২০ এপ্রিল সকাল ৯টায় বেনাপোল স্থলবন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নার্গিসের মরদেহ বুঝে পান তার পরিবার। ওইদিন দুপুরে স্থানীয় কবরস্থানে নার্গিসের মরদেহ দাফন করা হয়। নার্গিসের মরদেহ দাফন করার আগে মরদেহ গোসল করান লাইলি বেগম। তিনি বলেন, ‘নার্গিসের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর চিহ্ন রয়েছে। বা পায়ের গোড়ালি শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে চামড়ার সঙ্গে কোনো রকমে আটকে রয়েছে। ডান হাত কাঁধ থেকে ভাঙা। নার্গিসের দুই স্তনই কেটে ফেলা হয়।’

  • বিষয়:
  • top
আরও পড়ুন

সর্বশেষ