মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৭, ২০২৬
প্রচ্ছদচট্রগ্রাম প্রতিদিনপরিচ্ছন্ন, জলাবদ্ধতামুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত আলোকিত চট্টগ্রাম গড়ার প্রত্যয়ে ইশতেহার ঘোষণা করেছেন সোলায়মান শেঠ

পরিচ্ছন্ন, জলাবদ্ধতামুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত আলোকিত চট্টগ্রাম গড়ার প্রত্যয়ে ইশতেহার ঘোষণা করেছেন সোলায়মান শেঠ

পরিচ্ছন্ন, জলাবদ্ধতামুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত আলোকিত চট্টগ্রাম গড়ার প্রত্যয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন জাতীয় পার্টি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী সোলায়মান আলম শেঠ। রোববার সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম নগরী নিয়ে তিনি পঞ্চবর্ষ কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেন। সোলায়মান শেঠ বলেন, প্রাচ্যের রাণীখ্যাত বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম নানামুখী সমস্যায় জর্জরিত। উপযুক্ত নেতৃত্বের অভাব ও জাতীয় রাজনীতির কলুষ থাবায় চট্টগ্রামের কাঙ্খিত উন্নয়ন হয়নি। বিশ্বায়নের এ যুগে প্রতিটি দেশ যে গতিতে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে, সে গতিতে আমরা পিছিয়ে যাচ্ছি। সংকটের মূল কারণ সঠিক পরিকল্পনার অভাব, প্রাকৃতিক সম্পদের সদ্ব্যাবহার নিশ্চিত করতে না পারা ও দুর্নীতি। এখন সময় এসেছে ঘুরে দাঁড়ানোর এবং সঠিক নেতৃত্বের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের।

তিনি বলেন, ১৯৮২ সালে চট্টগ্রাম পৌরসভাকে চট্টগ্রাম পৌর কর্পোরেশনে রূপান্তরিত করেন হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। এরশাদের আমলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সিটি গর্ভমেন্ট হিসেবে সমস্ত কার্যক্রম সমন্বয় করেছিল। কিন্তু ১৯৯৩ সালে আইন করে তা বাতিল করা হয়েছিল। ফলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্থ হয়েছে। তিনি ডিস এন্টেনা মার্কায় মেয়র পদে নির্বাচিত হলে সিটি গর্ভমেন্ট পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার ঘোষণা দেন।

সোলায়মান শেঠ বলেন, জলাবদ্ধতা চট্টগ্রামের মূল সমস্যা হয়ে পড়েছে। কিন্তু আগের মেয়র শুধু জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন নগরীতে এ সমস্যাকে পরিকল্পনার মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছে। এ জন্য নগরীর বেদখল হয়ে যাওয়া খাল, নালা-নর্দমা ও জলাশয়সমূহ পুনঃখনন ও সংষ্কারের উদ্যোগ নিয়ে নদী শাসনের মাধ্যমে আধুনিক চট্টগ্রাম গড়ে তুলব। শেঠ বলেন, মহাসড়কের দুই পাশে অবৈধভাবে বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে উঠেছে। কিন্তু মেয়ররা অবৈধ দখলদারের সঙ্গে সমঝোতা করে কোন সময় ব্যবস্থা নেন নি। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ না করে দুর্ঘটনা বাড়িয়েছেন। এসব সমস্যা সকলের মতামত নিয়ে দ্রুত সমাধান করা সম্ভব। শুধু একটু সদিচ্ছার প্রয়োজন। আমি নির্বাচিত হলে ইনশাল্লাহ সেটি আমি করতে পারব।

এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে সোলায়মান আলম শেঠ প্রতি দুই মাস পরপর সুশীল সমাজের সঙ্গে বৈঠক করা, উন্নয়ন কাজের মনিটরিং করা, নাগরিক সেবা প্রদানের জন্য কোন করারোপ করা হবে না, প্রতিটি শিশুর শিক্ষার ব্যবস্থা করা, নগরীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ফ্রি ওয়াইফাই জোন তৈরি করা, সকল ধর্মের মানুষের মধ্যে মৈত্রীভাব সৃষ্টি করা, নগরীর সড়কগুলো সংষ্কার করা, বর্জ্য নিষ্কাশনে রি-সাইক্লিং প্ল্যান্ট গ্রহণ, যানজট নিরসনে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা, নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যকে কাজে লাগিয়ে আধুনিক পর্যটন নগরী গড়ে তোলাসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। তিনি নির্বাচনে ডিস এন্টেনায় ভোট দিয়ে জনগণের সেবা করার জন্য একবার সুযোগ চান। সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম সম্মিলিত সচেতন নাগরিক পরিষদের সদস্য সচিব তপন চক্রবর্তী, জাপা নেতা আবদুল মিয়া, শামসুল আলম দুলাল, জাহাঙ্গীর আলম, আলী ইমরান চৌধুরী, ছবির আহমেদ, সাগির আহমেদ সোহেল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ