জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আদালত পরিবর্তন ও বিচারিক আদালতের জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা স্থগিত চেয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার ১২ মার্চ। বৃহস্পতিবার শুনানির নতুন এ দিন ধার্য করেছেন বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ। গত ২৮ জানুয়ারি বিচারিক আদালতের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে আদালত পরিবর্তনের জন্য হাইকোর্টে আবেদন করেন খালেদার আইনজীবীরা। পরে এ আবেদনের সম্পূরক হিসেবে বিচারিক আদালতের জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা স্থগিত চেয়েও আবেদন জানানো হয়। আবেদনে দুর্নীতি মামলা দু’টির বিচারিক কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ চেয়ে রুল জারির আরজি জানানো হয়। এ রুল বিচারাধীন থাকাকালে গ্রেফতারি পরোয়ানা স্থগিত চেয়েছেন আসামিপক্ষ। খালেদার আইনজীবীরা জানান, একই দিনে সব আবেদনের শুনানি করবেন তারা। গত সোমবার এ আবেদনের শুনানির দিন ৫ মার্চ ধার্য করে দেন আদালত।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা ওই দুই দুর্নীতি মামলার বিচার চলছে রাজধানীর বকশিবাজারে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে স্থাপিত তৃতীয় বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদারের অস্থায়ী আদালতে। শুনানিতে দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত থাকায় গত ২৫ ফেব্রুয়ারি খালেদাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। অন্য দু’জন হচ্ছেন- মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ। গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রত্যাহার, আদেশ সংশোধন ও জামিন বহাল রাখতে খালেদার আবেদনের শুনানি শেষে বুধবার (৪ মার্চ) গ্রেফতারি পরোয়ানা বহাল রেখেছেন বিচারিক আদালত। খালেদার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণসহ মামলা দু’টির কার্যক্রম আগামী ৫ এপ্রিল পর্যন্ত মুলতবি করেছেন আদালত। ওইদিন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার দ্বিতীয় সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করার কথা। এর আগে এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন বাদী ও প্রথম সাক্ষী দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশিদ। বুধবারের আদেশে মামলাটির অপর আসামি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান খালেদার বড় ছেলে তারেক রহমান আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে হাজিরা দেওয়ার অনুমতিও দিয়েছেন আদালত। ছয় আসামির অন্য দু’জন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান মামলার শুরু থেকেই পলাতক।




