আপিল মামলার চূড়ান্ত পূর্ণাঙ্গ রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ (পুর্নবিবেচনা) আবেদন করেছেন মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামান। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিভিউ আবেদনটি দাখিল করেন কামারুজ্জামানের আইনজীবীরা। কামারুজ্জামানের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির রিভিউ দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি কামারুজ্জামান কারাগারে তার মৃত্যু পরোয়ানা ও আপিল মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় জানার পর থেকে রিভিউ আবেদন করতে ১৫ দিন সময় পাবেন বলে জানিয়েছিলেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এ হিসেবে ১৫ দিন পূর্ণ হওয়ার শেষ দিন ৫ মার্চই রিভিউ আবেদন করলেন তার আইনজীবীরা।
আইনমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছিলেন, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর থেকেই রায় কার্যকরে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এখন রিভিউ করায় সে প্রস্তুতি স্থগিত থাকবে এবং রিভিউ নিষ্পত্তির পর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল থাকলে রায় কার্যকরে আর কোনো বাধা থাকবে না। অবশ্য ফাঁসির আদেশ বহাল থাকলে এরপর থেকে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা করতে সাতদিন সময় পাবেন আসামি। বুধবার ও গত ২১ ফেব্রুয়ারি দু’দফায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে কামারুজ্জামানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তার পরমর্শ নিয়ে রিভিউ প্রস্তুতি ও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন তার আইনজীবীরা। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি পূর্ণাঙ্গ রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি পাওয়ার পর থেকে রিভিউ চূড়ান্ত করার কাজ শুরু করেন তারা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কামারুজ্জামানের সঙ্গে কারাগারে দেখা করে এসেছেন তার পরিবারের সদস্যরাও।
বুধবার কামারুজ্জামানের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আপিল বিভাগের অন্যান্য মামলার ক্ষেত্রে যেসব সুযোগ-সুবিধা ও সময় দেওয়া হয়, আমরা আশা করবো, কামারুজ্জামানের রিভিউয়ের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে। রিভিউ আবেদনে ন্যায়বিচার পাবেন বলে কামারুজ্জামানও বেশ আশাবাদী বলেও উল্লেখ করেন এই আইনজীবী। তাজুল বলেন, কামারুজ্জামান শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ হলেও মানসিকভাবে বেশ দৃঢ় রয়েছেন। তিনি বলেছেন, তার বিরুদ্ধে যে রায় দেওয়া হয়েছে তাতে তিনি ন্যায়বিচার পাননি।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি (বর্তমান প্রধান বিচারপতি) এসকে সিনহার নেতৃত্বে চার বিচারপতির বেঞ্চ কামারুজ্জামানের আপিল মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় ঘোষণা করেন। এরপর ১৯ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানসহ তিন বিচারপতি কামারুজ্জামানের মৃত্যু পরোয়ানায় স্বাক্ষর করেন। পরে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার মুস্তাফিজুর রহমান মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে আইজিপি (প্রিজন) এর বরাবরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠান। পরে কারাগারে কামারুজ্জামানকে মৃত্যু পরোয়ানা পড়ে শোনানো হয়। গত বছরের ৩ নভেম্বর কামারুজ্জামানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর দেওয়া ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখে চূড়ান্ত রায় সংক্ষিপ্ত আকারে দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের কিলিং স্কোয়াড আলবদর বাহিনীর বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা কমান্ডার কামারুজ্জামানকে ২০১৩ সালের ৯ মে ফাঁসির আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।




