চা সংসদ সচিবালয় চট্টগ্রাম থেকে সরানোর কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ। তিনি বলেন, এর ধরণের খবর সত্য নয়, চা সচিবালয় চট্টগ্রামে ছিল, চট্টগ্রামেই থাকবে। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম আর্ন্তজাতিক বানিজ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এই কথা জানান। নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন উপলক্ষে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
জঙ্গী সংগঠন আইএস আর আল কায়েদার মতো যারা আন্দোলন করে তাদের সঙ্গে কোন সংলাপ হবে না জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, নির্বাচনের জন্য খালেদা জিয়াকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তিনি বলেন, আইন মানবেন না, নিয়ম মানবেন না, ককটেল আর পেট্রোল দিয়ে নিরিহ মানুষ পুড়িয়ে মারবেন, তার সঙ্গে কিসের সংলাপ। ২০১৯ সালের ২৯ জানুয়ারি বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হবে। এরমধ্যে নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন হবে।
চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, সংসদ সদস্য এমএ লতিফ, মেলার চেয়ারম্যান নুরুন নেওয়াজ সেলিম, কো চেয়ারম্যান সৈয়দ জামাল আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। কোরিয়ান ইপিজেডের খালি প্লট বরাদ্দ প্রসঙ্গে তোফায়েল আহমেদ বলেন, এমন কিছু করা হবে না যাতে স্থানীয় জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়।
চা সংসদ সচিবালয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হচ্ছে সম্প্রতি এমন খবর প্রকাশিত হয় বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি এ প্রক্রিয়া বন্ধ করতে বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ’র হস্তক্ষেপ কামনা করেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা। মঙ্গলবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাহবুবুল আলমের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বাণিজ্যমন্ত্রী এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেন, বাংলাদেশ আর পিছিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্থ করতেই আন্দোলনের নামে বিএনপি নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংসদ সদস্য এমএ লতিফ বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বুনিয়াদ নষ্ট করতে স্বাধীনতা বিরোধীদের সঙ্গে নিয়ে খালেদা জিয়া পেট্রোল হাতে নিয়েছেন। তিনি খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলেন, মানুষ মেরে বাংলাদেশে কোন জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠান করতে চান,জনগণ জানতে চায়। আপনার অভিষ্ঠ লক্ষ্য জনগণকে বলতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ২০১৪ সাল ব্যবসা বান্ধব বছর পার করলেও চলতি বছরের শুরু থেকেই হরতাল অবরোধ শুরু হয়। তিনি বলেন, হরতাল-অবরোধে থেকে নেই। পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা এই অবস্থা থেকে মুক্তি চায়। আমরা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা চাই। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ চাই। গ্যাসের অভাবে ২০০৯ সাল থেকে চট্টগ্রামে বিনিয়োগ করেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, ৪৫০ ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ২ থেকে আড়াইশ। তাও আবার চাপ কম।




