বন্দরনগরী চট্টগ্রামের প্রথম পাঁচতারকা হোটেল রেডিসন ব্লু উদ্বোধনের জন্য এসেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার দুপুর ২টা ১৭ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর এম এ আজিজ স্টেডিয়ামসংলগ্ন রেডিসনে এসে পৌঁছায়। এরপর প্রধামন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে হোটেলের উদ্বোধন করেছেন। সেখানে থাকা নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, সেনানিবাস থেকে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর সোয়া ২টার পর রেডিসনে এসেছে। এরপর প্রধানমন্ত্রী হোটেলের উদ্বোধন করেছেন। রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকা থেকে সরাসরি রামুতে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে সেনাবাহিনীর একটি অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে প্রধানমন্ত্রী দুপুর দেড়টার দিকে হেলিকপ্টারযোগে আসেন চট্টগ্রাম সেনানিবাসে। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে আসেন রেডিসন হোটেলে।
প্রায় ৪ দশমিক ১৮ একর জায়গার উপর ২২ তলা এই হোটেলটি চট্টগ্রাম ক্লাব, এম এ আজিজ স্টেডিয়াম ও সার্কিট হাউজের মধ্যবর্তী জায়গায় নির্মাণ করা হয়েছে। প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হোটেলটির প্রথম পাঁচ তলা পর্যন্ত প্রতিটি ফ্লোরের আয়তন ৮৬ হাজার বর্গফুট। পরবর্তী ফ্লোরগুলোর প্রতিটির আয়তন ২০ হাজার বর্গফুট। ২৪৯টি কক্ষের হোটেলটিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মতো ভিআইপিদের জন্যও রয়েছে পৃথক স্যুট কক্ষ।
সূত্র জানায়, প্রাচ্যের রাণী খ্যাত চট্টগ্রামের পাহাড়-নদী-সমুদ্রের অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে মিল রেখে সবুজবান্ধব নানা আয়োজনে হোটেলটি নির্মাণ করা হয়েছে। হোটেলের ষষ্ঠ তলা পর্যন্ত বিশেষ র্যাপের মাধ্যমে ঘুরে ঘুরে উঠতে পারবে গাড়ি। ষষ্ঠ তলাতেই থাকছে সার্কুলার কার পার্কিং ও সুইমিং পুল। পাঁচ তারকা এই হোটেলে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যকে ধারণ করে মেজবান হল নামে পরিচিত দুটি ব্যাংকুইট হল করা হয়েছে। প্রতিটিতে একসঙ্গে মেজবানে অংশ নিতে পারবেন এক হাজার অতিথি। হোটেলের ভেতরে বাইরে মিলে এক হাজার অতিথির গাড়ি পার্কিংয়ের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া সাতটি লিফট, দুটি লং টেনিস কোর্ট, একটি ডিসকো থিক, মিনি শপিং মার্ট, ব্যাংকসহ পাঁচ তারকা হোটেলের যাবতীয় সব সুযোগ-সুবিধা এই হোটেলে আছে। ২০১১ সালের ১৭ জুলাই রেডিসন ব্লু ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল। হোটেলটি নির্মাণে সময় লেগেছে প্রায় সাড়ে তিন বছর। পহেলা বৈশাখ থেকে হোটেলটির বাণিজ্যিক যাত্রা শুরুর কথা রয়েছে।




