সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬
প্রচ্ছদদেশজুড়েবিনম্র শ্রদ্ধা ও হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসায় উদযাপিত হল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

বিনম্র শ্রদ্ধা ও হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসায় উদযাপিত হল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

নাঙা পায়ে লাখো মানুষের সারি। কণ্ঠে একুশের সেই অবিনাশী গান। হাতে ফাগুনের সদ্য ফোটা ফুল। সবার গন্তব্য একই স্থানে- ভাষা আন্দোলনের স্মৃতির মিনার। তাতে বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন এবং হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসায় মৃত্যুঞ্জয়ী ভাষা শহীদদের স্মরণের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হল মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিটে জাতির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বাহান্নর মহান ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করে দিবসের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। তার সঙ্গেই অমর শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারা কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান জানান। এ সময় বেজে ওঠে অমর একুশের সেই চিরচেনা করুণ সুর ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্র“য়ারি, আমি কী ভুলিতে পারি’।এবার রাজনৈতিক এক চরম সংকটের মধ্য দিয়ে পালিত হল দিনটি। বিএনপি ও তার মিত্রদের টানা ৪৭ দিনের অবরোধ আর হরতালের আবহে অজানা আতংক ঠেলেই এদিন জাতি জানায় ভাষা শহীদদের অন্তহীন শ্রদ্ধা। গভীর রাতে যে সে াতের শুরু, তা ছিল শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত। বিদেশী বহু নাগরিকও এদিন শ্রদ্ধার ফুল অর্পণ করেন স্মৃতির মিনারে।এবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যাননি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ৩ জানুয়ারি থেকে তিনি গুলশানে নিজ কার্যালয়ে অবস্থান করছেন। তবে তার পক্ষ থেকে সকালে শ্রদ্ধা জানিয়েছে বিএনপি।স্বভাবতই এবারের আয়োজনে সর্বত্রই উচ্চারিত হয়েছে উৎকণ্ঠাহীন, নাশকতা ও সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়। সুষ্ঠু রাজনীতি ও গণতন্ত্র চর্চার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের বসবাস উপযোগী বাংলাদেশ দেখার আকুলতা প্রকাশ পেয়েছে শহীদ মিনারমুখী মানুষের কথায়। সর্বস্তরে বাংলা প্রচলন আর জাতিসংঘের অষ্টম দাফতরিক ভাষা হিসেবে বাংলার স্বীকৃতির কথাও আলোচিত হয়েছে।ধানমণ্ডির ঝিগাতলা থেকে মিজান চৌধুরী শহীদ মিনারে এসেছিলেন স্ত্রী নাজমা আক্তার, দু’সন্তান নাফিসা চৌধুরী ও নাফিস চৌধুরীকে নিয়ে। পরনে ছিল বর্ণমালায় খচিত পোশাক। মিজান চৌধুরী বলেন, ‘এক বছর বয়স থেকে প্রতিবছর ওদের শহীদ মিনারে নিয়ে আসছি, যাতে ওদের মধ্যে দেশ, দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য আর ভাষার প্রতি দরদ তৈরি হয়।’১৯৫২ সালের এ দিনে পাকিস্তানি শাসকের গুলিতে রঞ্জিত হয়েছিল ঢাকার রাজপথ। জীবন দিয়েছিলেন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউরসহ নাম না জানা অনেকেই। ওই রক্তের দামে এসেছিল বাংলা ভাষার স্বীকৃতি। তার সিঁড়ি বেয়েই ১৯৭১ সালে মহান মুত্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় স্বাধীনতা। তাই একুশ কেবল ভাষার অধিকার আদায়ের জন্য, মুক্তির দিশা দেয়ারও। বাঙালির সেই আÍত্যাগের দিন এখন কেবল আর বাংলার নয়, প্রতিটি মানুষের মায়ের ভাষার অধিকার রক্ষার দিনও। রাষ্ট্রীয় সীমানা ছাড়িয়ে ২১ ফেব্র“য়ারি এখন ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’। ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘের অঙ্গ সংস্থা ইউনেসকো এ দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এ কারণে বাঙালির এ আÍত্যাগের দিনটি শনিবার বাংলাদেশের পাশাপাশি পালন করা হয় সারা বিশ্বে।৬৩তম এ দিবস উদযাপনে আবালবৃদ্ধবণিতার মানসিক প্রস্তুতি ছিল সর্বত্র। পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে বইমেলা সব জায়গায়ই ছিল একুশের আবহ। তবে সব আয়োজন গিয়ে মিলেছিল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। শহীদ মিনারে শুক্রবার মধ্যরাত থেকে লাখো মানুষের ঢল নামে। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় পতাকা ছিল অর্ধনমিত। উত্তোলন করা হয় কালো পতাকা। সরকারিভাবে ও দৈনিক যুগান্তরসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক নিজস্ব উদ্যোগে বিশেষ ক্রোড়পত্র বের করে। বেতার ও টেলিভিশনে বিশেষ অনুষ্ঠান ও নাটক-চলচ্চিত্র সম্প্রচার করা হয়।একুশের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, ব্রিটিশ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডসের স্পিকার রাইট ব্যারোনেস ডি সুজা, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের নেতারা শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। বিরোধীদলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে সঙ্গে নিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।এছাড়াও তিনবাহিনী (সেনা, নৌ, বিমান) প্রধান, ইন্টারপার্লামেন্টারি ইউনিয়নের চেয়ারপার্সন সাবের হোসেন চৌধুরী, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন বিদেশী দূতাবাসের কর্মকর্তা, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ও ভাষা সৈনিকরা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি অধ্যাপক আআমস আরেফিন সিদ্দিকের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।প্রতিবার প্রথম প্রহরে বিএনপিসহ তার অঙ্গসংগঠন শ্রদ্ধা জানালেও এ বছর তাদের দেখা যায়নি। ঐতিহ্যগতভাবে সব ছাত্র সংগঠন শ্রদ্ধা নিবেদনের পূর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রে একত্রিত হলেও এ বছর বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল সেখানে আসেনি।প্রথম প্রহরের পর তুলে নেয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী। পাশাপাশি জনসাধারণের শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয় শহীদ মিনার। এরপরই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের ঢল নামে। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক দল ও সংগঠন ছাড়াও ছাত্র, যুব, নারী, শ্রমিক, শিশু-কিশোর সংগঠনগুলো এবং শত শত মানুষ সারিবদ্ধভাবে একে একে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে গভীর শ্রদ্ধা জানান ভাষা শহীদদের প্রতি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে একুশ উদযাপন কমিটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রচার মঞ্চ বানিয়ে অনুষ্ঠানের ধারা বর্ণনা করে। সেখান থেকে মাইকে অমর-করুণ সুর বাজানো ছাড়াও ধারা ভাষ্যকার ও আবৃত্তি শিল্পীরা রাতভর, পরে একুশের বিকাল পর্যন্ত একুশের কবিতা আবৃত্তি করেন।এ বছর পদ্মকুড়ি নামের একটি হিজড়া সংগঠনকে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে দেখা গেছে। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা ও সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসেনসহ নেতারা রাতেই শ্রদ্ধা জানান।রাত ২টা ৫০ মিনিটে শেষ হয় শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষের দীর্ঘ সারি। এ সময় শহীদ মিনার এলাকা ছিল পুরো ফাঁকা। আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, রোভার স্কাউট, বিএনসিসি এবং গণমাধ্যম কর্মী ব্যতীত সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। রাত ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এজেডএম শফিউল আলম ভূঁইয়ার নেতৃত্বে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন হলটির শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীরা। এরপরে ভোর পাঁচটা পর্যন্ত শহীদ মিনার ছিল একেবারেই ফাঁকা। ৫টা ৩মিনিটে বিএসএসবি নামক একটি সংগঠন শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রাতভর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। নানা দলে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ আসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়।এরপর পূর্ব আকাশে ভোরের লাল সূর্য উঁকি দিলে নামে মানুষের ঢল। আসতে থাকে একের পর এক মিছিল। বিভিন্ন সংগঠন/প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আওয়ামী হাকার্স লীগ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (ঢাকা মহানগর), বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও যুব ইউনিয়নের মহানগর শাখা, তেজগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা, বিআইডব্লিউটিসি, আশা ইউনিভার্সিটি, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বদরুন্নেসা কলেজ ছাত্রলীগ, ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভারনমেন্ট, আনন্দময়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কৃষিবিদ ইন্সটিটিউট, বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ পরিষদ, জাকের পার্টি, জাকের পার্টি যুব ফ্রন্ট শ্রদ্ধা জানায়।সাড়ে আটটার দিকে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে আসে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ঢাকা মহানগর, ছাত্রদল ও যুবদল ঢাকা নগর, মহিলা দল, বিএনপিপন্থী চিকিৎসক সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাব।এরপরেই মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার নেতৃত্বে শ্রদ্ধা জানাতে আসে মহানগর আওয়ামী লীগ, ঢাকা মহানগর যুবলীগ উত্তর ও দক্ষিণ, অধ্যাপক হারুন অর রশীদের নেতৃত্বে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, গণফোরাম, মহিলা শ্রমিক লীগ, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, গণ বিশ্ববিদ্যালয়, বদিউজ্জামান সোহাগের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ-স্বাচিপ, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনাল, পরিবেশবাদী যুব সংগঠন গ্রিন ভয়েস, প্রজন্মের চেতনা, উদীচী শিল্পি গোষ্ঠী, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দল, ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগ, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর, মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গণস্বাস্থ্য, গণতন্ত্রী পার্টি, জাতীয় গণফ্রন্ট, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, জাতীয় শ্রমিক লীগ, গণমুক্তি ইউনিয়ন, হকার্স লীগ, বস্তিবাসী লীগসহ অসংখ্য সংগঠন। জাতীয় পার্টির (জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য নবাব আলী আব্বাস খানের নেতৃত্বে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়।বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ব্যক্তি পর্যায়ে শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষের ভিড়। এ সময় কোলের শিশু থেকে অচল প্রায় বৃদ্ধসহ হাজার হাজার নারী-পুরুষকে শ্রদ্ধা জানাতে দেখা যায়। ফুলে ফুলে ভরে যার শহীদ মিনার। ফাগুনের রৌদ্রালোকজ্জ্বল দিনে পুরোটা শহীদ মিনার যেন বর্ণিল রং ধারণ করে।ফুলেল আলপনা : সূর্য মাথার ওপর ওঠার পর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বিভিন্ন স্থানে আঁকা আলপনাগুলো ফুল দিয়ে সাজাতে শুরু করে স্বেচ্ছাসেবকরা। শহীদ বেদির ঠিক মাঝখানে রক্ত গোলাপ, হলুদ গাদা ও সাদা অর্কিড দিয়ে চিত্রিত হয় বাংলাদেশের মানচিত্র। স্বাধীন সর্বভৌম মানচিত্রের মাঝে বাদ যায়নি পতাকাও। তৈরি করা হয় লাল-সবুজের পতাকা। অন্যসব আলপনায় দেয়া হয় ফুলের পরশ। ফুলের ছোঁয়ায় আলপনাগুলো জীবন্ত হয়ে ওঠে।নিরাপত্তা ব্যবস্থা : যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শহীদ মিনার এলাকায় ছিল আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্ক অবস্থান। র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবির পাশাপাশি সাদা পোশাকে ব্যাপক পরিমাণে ডিবি পুলিশ মোতায়েন ছিল। পুরো এলাকা সিসিটিভির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করে পুলিশ সদস্যরা। কোনো অপ্রীতিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়নি বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এম আমজাদ আলী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দায়িত্ব পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় বিএনসিসি ও রোভার স্কাউটের কয়েক হাজার সদস্য।উৎসব আমেজ, পরনে-বলনে প্রকাশ : রাজধানীজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ। শহীদ মিনারে আসা নগরবাসীর পোশাকে ছিল একুশের চেতনার ছাপ। কপাল জড়ানো ছিল জাতীয় পতাকায়। পোশাকে সাদা আর কালো রঙের ব্যবহার বেশি। তাতে খচিত ছিল বর্ণমালা, কবিতার চরণ বা গানের কলি। আবার লাল-সবুজের বাংলাদেশকে ধারণ করতে দেখা গেছে কারও কারও পোশাকে। রাস্তার পাশে ছোট ছোট দোকানে এবং হাতে করে ফেরিওয়ালাদের ছোট ছোট পতাকা, একুশের বাণী লেখা মাথায় বাঁধার ফিতা, শহীদদের ছবিসহ পোস্টকার্ড বিক্রি করতে দেখা যায়। শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করে বেশিরভাগ মানুষকে বইমেলায় ঢুকতে দেখা গেছে। আর একুশের প্রথম প্রহরের কথা বিবেচনায় রেখে শুক্রবার বইমেলার দরজা উন্মুক্ত হয়েছে সকাল ৮টায়।এছাড়া বহু সংগঠন রাজধানীতে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গান, রচনা, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা তাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করে সকালে। এছাড়া নতুনধারা বাংলাদেশ-এনডিবি আলোচনার আয়োজন করে।সারা দেশেই একুশের গান, কবিতা আবৃত্তি, নৃত্য আর নাটকে নাটকে মুখর হয়ে ওঠে প্রতিটি প্রাঙ্গণ। দেশের প্রায় সব শিক্ষাঙ্গনে স্থায়ী এবং অস্থায়ী শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। গ্রামের ফসল কাটা মাঠে, মফস্বলের পার্কে মঞ্চ বানিয়ে আয়োজন করা হয় একুশের অনুষ্ঠানের।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসূচি : বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আআমস আরেফিন সিদ্দিকের নেতৃত্বে আজিমপুর কবরস্থান ও শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এর আগে একুশের প্রথম প্রহরেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। শ্রদ্ধা জানানো হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের পক্ষ থেকেও।শনিবার বাদ জোহর অমর একুশের শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব মসজিদে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সঙ্গীত বিভাগের উদ্যোগে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে পরিবেশিত হয় ভাষা ও দেশের গান।
  • বিষয়:
  • top
আরও পড়ুন

সর্বশেষ