রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ না হলে সমাজ এগিয়ে যাবে না : প্রধানমন্ত্রী

নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ না হলে সমাজ এগিয়ে যাবে না : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ না হলে সমাজ এগিয়ে যাবে না। তিনি বলেন, মেয়েরা যেখানেই কাজ করছেন তারা ভালো কাজ করছেন। মেয়েরা অনেক স্মার্ট। সব জায়গাতেই সফল। মঙ্গলবার সকালে বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে বেগম রোকেয়া পদক প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই পদক বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। নারীর শিক্ষা, অধিকার ও দারিদ্র্য বিমোচনে অবদান রাখায় অধ্যাপক মমতাজ বেগম এবং সমাজকর্মী গোলাপ বানুকে এ বছরের রোকেয়া পদক দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের হাতে এ পদক তুলে দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেগম রোকেয়া বেঁচে থাকলে নিশ্চয়ই খুশি হতেন এটা দেখে যে বাংলাদেশ তার স্বপ্ন পূরণে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তিনি বলেন, বেগম রোকেয়া এক সময় স্বপ্ন দেখেছিলেন, একটি নারীস্থান গড়ে তোলার। এককভাবে পুরোপুরি নারীদের নিয়ে চলা সম্ভব না হলেও বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। নারী উন্নয়নে তার সরকারের সাফল্য ও পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ক্ষমতায় আসার পর সংসদে নারীদের সংরক্ষিত আসন ৫০-এ উন্নীত করেছি। এ দেশের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার এবং সংসদ উপনেতা নারী বলে উল্লেখ করেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, সেনাবাহিনী, নৌ-বাহিনী, বিমানবাহিনী, সচিবালয়সহ বিভিন্ন স্থানে মেয়েদের কাজ করার সুযোগ দিয়েছি। জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ছাড়াও থানার ওসির মতো ঝুঁকিপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং দায়িত্বেও নারীদের পদায়ন করা হয়েছে। এসব পদেও তারা সফলভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ বছর রোকেয়া পদক পাওয়া মুক্তিযোদ্ধা মমতাজ বেগমের জন্ম ১৯৪৬ সালের ১৩ এপ্রিল কুমিল্লায়। ১৯৬২ সালের হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট বাতিল আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের ১১ দফাসহ বিভিন্ন আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
১৯৭২ সালের নারী পুনর্বাসন বোর্ডের সদস্য হিসাবে মমতাজ বেগম সারাদেশ ঘুরে মুক্তিযুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত ও নির্যাতিত নারীদের পুনর্বাসনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ সদস্য (এমএনএ) হিসাবে দায়িত্ব পালন করা এই নারী ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদেরও সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান মমতাজ শিক্ষকতা করেছেন ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজে। এর আগে বাংলাদেশ মহিলা সমিতি, নারী প্রগতি সংঘ, জাসদ, নৌকমান্ডো ও নারী ফাউন্ডেশনের সম্মাননাও তিনি পেয়েছেন। গোলাপ বানু ১৯৬৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও সমবায় সমিতির মাধ্যমে তিনি নারীর আর্থসামাজিক উন্নয়নে অসামান্য ভূমিকা রখেন। ১৯৯৬ সালে গোলাপ বানু কয়েকজন নারীকে সঙ্গে নিয়ে বারিধারা মহিলা সমবায় সমিতি চালু করেন। গোলাপ বানুর উদ্যোগে এ সমিতির সদস্যদের শিক্ষা দিতে বর্তমানে ৬টি স্কুলও পরিচালিত হচ্ছে। এ ছাড়া অসহায় ও দুস্থ মহিলাদের ধাত্রী সেবা দেয়ার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখছেন তিনি।
  • বিষয়:
  • top
আরও পড়ুন

সর্বশেষ