রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৬
প্রচ্ছদরাজনীতি২১ অগাস্ট মামলা নিয়ে ‘মিথ্যাচার’ করেছেন সুরঞ্জিত: রিজভী

২১ অগাস্ট মামলা নিয়ে ‘মিথ্যাচার’ করেছেন সুরঞ্জিত: রিজভী

একুশ অগাস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনা নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মন্তব্যকে ‘মিথ্যাচার ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলেছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, তারেক রহমানকে জড়াতেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ওই মামলা সাজানো হয়েছে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত গত মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, ২১ অগাস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রক্রিয়ায় ‘ঝামেলা’ রয়েছে, কেননা তাকে সাক্ষী করা হয়নি।  রিজভী বলেন, “আমরা বলতে চাই, ওই মামলায় বাবু সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ৭ নম্বর সাক্ষী। অথচ তিনি কতো অবলীলায় একে আড়াল করতে অসত্য বিবৃতি প্রদান করেছেন।”  “এ থেকে বোঝা যায়, মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই মিথ্যা মামলা সাজানো হয়েছে। এর উদ্দেশ্য একটাই, আসল আসামিদের আড়াল করার মাধ্যমে তারেক রহমানকে জড়ানো।”

২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় ২৪ জন নিহত হন। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত নিজেও ওইদিন সমাবেশে অংশ নিয়ে আহত হয়েছিলেন। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে এই ঘটনার তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হয় বলে অভিযোগ ওঠে। কয়েকজন তদন্ত কর্মকর্তার হাত ঘুরে দায়িত্ব পেয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে ২০০৮ সালের ৯ জুন ২২ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেন সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার ফজলুল কবীর। এরপর বিচার শুরু হয়, সাক্ষ্যগ্রহণ হয় ৬১ জনের। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাওয়ার পর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে অধিকতর তদন্তের আদেশ দেন দ্রুতবিচার আদালতের তৎকালীন বিচারক মাসদার হোসেন। অধিকতর তদন্ত শেষে তারেক রহমান, লুৎফুজ্জামান বাবর ও আলী আহসান মো. মুজাহিদসহ আরো ৩০ জনকে আসামি করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেন সিআইডির সুপার আব্দুল কাহহার আকন্দ। ২০১১ সালে তিনি অভিযোগপত্র দেয়ার পর নতুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।

এ মামলায় ‘পুনঃতদন্তের নামে’ সম্পূরক অভিযোগপত্রে তারেক রহমানের নাম যুক্ত করতে মুফতি হান্নানের কাছ থেকে ‘জোর করে জবানবন্দি’ আদায় করা হয় বলে অভিযোগ করেন রিজভী। তিনি বলেন, “২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ওয়ান-ইলেভেনের সরকারের দেওয়া অভিযোগপত্র পাল্টে নতুন করে সম্পূরক অভিযোগপত্রের মাধ্যমে তারেক রহমানের নাম যুক্ত করা একটি বর্বর পরিকল্পনারই অংশ।” অন্যদের মধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম, খায়রুল কবীর খোকন, সানাউল্লাহ মিয়া, হাবিবুর রহমান হাবিব, আবদুস সালাম আজাদ, মীর সরফত আলী সপু, আবদুল আউয়াল খান ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ