সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬
প্রচ্ছদরাজনীতিসংবিধান সংশোধনের আগে সবার সঙ্গে আলোচনা করা যেত

সংবিধান সংশোধনের আগে সবার সঙ্গে আলোচনা করা যেত

সংবিধান সংশোধনের আগে সবার সঙ্গে আলোচনা করা যেত। এটা না করে ‘সুপারসনিক’ গতিতে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ায় জনমনে সন্দেহ ও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে এখনো আলোচনার সুযোগ আছে। শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে এ অভিমত ব্যক্ত করেন বিশেষজ্ঞরা।

বিবিসি বাংলা ও বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের উদ্যোহে বিবিসি সংলাপের ৮৫তম পর্বে প্রবীণ আইনজীবী ও সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন, আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক আব্দুল মতিন খসরু, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও সরকার বিভাগের অধ্যাপক ড. নাসিম আখতার হুসেন আলোচক হিসেবে অংশ নেন।

বিবিসি বাংলার সংবাদদাতা আকবর হোসেনের পরিচালনায় সংলাপে সংবিধান সংশোধনীর পাশাপাশি সম্প্রতি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যায়ে ভর্তিতে ইউজিসির সতর্কতা, রেল লাইনের পাশে দুর্ঘটনা ও রাজনৈতিক দলগুলোর ক্রমশ জনবিচ্ছিন্নতার কথা উঠে এসেছে। সংবিধান প্রসঙ্গে ড. কামাল হোসেন বলেন, এখনো সংশোধনী পাশ করা হয়নি। সুতরাং সবার সঙ্গে আলোচনা করে সংশোধনী করা উচিত।

তিনি বলেন, সংবিধান হলো দেশের সর্বোচ্চ আইন। তাই সংবিধান সংশোধনী করার ক্ষেত্রে আলোচনা হওয়া দরকার। এভাবে ‘সুপারসনিক’ গতিতে সংশোধন করার দরকার নেই। এভাবে তড়িঘড়ি করায় জনমনে সন্দেহ দেখা দিয়েছে, সরকার এবিষয়ে সবার মতামত নিতে পারতেন। ড. কামাল হোসেন, সরকার বলছে বিচারপতিদের অভিসংশনের জন্য আইন করা হবে। কিন্তু কবে হবে, আইনে কী থাকবে সেটা এখনো স্পষ্ট নয়।

আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক আব্দুল মতিন খসরু বলেন, এটা যুক্তি সঙ্গত ব্যাপার যে, খুব তড়িঘড়ি করে সংবিধান সংশোধন করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আলোচনা করা উচিত ছিল। অভিসংশনের আইন তৈরির সময় সবার মতামত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। আওয়ামী লীগ নেতা খসরু বলেন, বিচারপতিদের বিরুদ্ধে অসদাচারণ ও অসামর্থ্যতার বিষয়ে তদন্ত করবেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে একটি দল। অভিসংশনের বিষয়ে সংসদ শুধু অনুমোদন দিবে। সিল মারার কাজটি করবে সংসদ।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা যতটুকু রয়েছে, এই সংশোধনীর মাধ্যমে তাও শেষ করা হচ্ছে। যেখানে আজ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতিদের নিয়োগের কোনো আইন করা হয়নি, সেখানে তাদেরকে বাদ দেওয়ার ব্যাপারে এত উদ্যোগ কেন?

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নাসিম আখতার হুসেন বলেন, বিচারপতিদের বিচার করার জন্য জনতা জাগে নি। বরং সরকারের এমপিরা চেয়েছেন তাদের ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য। এ সংশোধনীর ফলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়বে বলেও মত দেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এ অধ্যাপক।

‘বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন ১২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি না হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দিয়েছে। এ ধরনের পরামর্শ না দিয়ে কর্তৃপক্ষের কী উচিত নয়- এসব বিশ্ববিদ্যালয় পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া’ দর্শকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন দেওয়া হয় রাজনৈতিক বিবেচনায়। তাই ঠিকমতো নজরদারি করা হয়না। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মনিটরিং করার ক্ষেত্রে আইনের ঘাটতি নেই কিন্তু তা প্রয়োগের ঘাটতি আছে। যাদের পৃষ্ঠপোষকতায় এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে তারাই এদের আগলে রাখেন, তাই তাদের নিয়ন্ত্রণ করা হয়না।

আব্দুল মতিন খসরু বলেন, এটা খুবই ভয়ঙ্কর বিষয়, জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছে না বলিই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এ অবস্থা তৈরি হয়েছে। মনিটরিং করে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

অধ্যাপক নাসিম আখতার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জ্ঞান চর্চার চেয়ে মুনাফা অর্জনের দিকে মনোনিবেশ করায় এ অবস্থা। ভর্তিতে সতর্কতা না করে রাষ্ট্রের উচিত ওই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করে শুদ্ধির দিকে নিয়ে যাওয়া। কারণ আমাদের দেশে যেভাবে পাশের হার বাড়ছে, সে অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজন।  সংলাপে প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল জনবিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় ক্রমশও গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ছে বলেও মত দেন আলোচকরা। সম্প্রতি রেল দুর্ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে দায়ী করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তারা।

  • বিষয়:
  • top
আরও পড়ুন

সর্বশেষ