আদালতে পুলিশ কর্মকর্তাদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার তানজীব উল আলম। রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমাতুল করীম। আবেদনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ আসাদ উল্লাহ। শুনানির শুরুতে আদালত ডিএমপি কমিশনারকে আদালতের আদেশ মানতে কি সমস্যা ছিলো- তা জানতে চান। জবাবে কমিশনার বলেন, পুরো বিষয়টিকে আমরা স্টাডি করেছি। আদালতের আদেশ মানতে হবে। কবরস্থানের দেয়াল পুননির্মাণ নিয়ে সিটি করপোরেশন আমাদের ১৬টি চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে তারিখ ও ফোর্স মোতায়েনের বিষয়গুলো নির্দিষ্ট করে ছিলো না। এছাড়া গত বছর একটা ক্রান্তিকাল সময় অতিক্রম করেছি। প্রায় প্রতিদিন হরতাল-অবরোধ ছিলো। আমাদের জনবল খুব ব্যস্ত ছিলো। এরপরেও ৯০ শতাংশ দেয়াল ভাঙ্গা হয়েছে।
বেনজীর বলেন, লালবাগ থানার ওসি বিষয়টি নিয়ে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। পরে গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে আদালতের আদেশ মোতাবেক কাজ শুরু হয়েছে। এ সময় তিনি কাজের অগ্রগতি সম্বলিত কিছু ছবি আদালতের কাছে উপস্থাপন করেন। এরপর তিনি বলেন, আদালতের আদেশ শিরোধার্য। আমরা কাউকে ব্লেম করতে চাই না। সিটি করপোরেশন আমাদের ব্রাদার সংগঠন। খুব দ্রুত কাজ শেষ হয়ে যাবে। এরপরও কোনো ত্রুটি থাকলে আমি নিঃশর্ত ক্ষমা চাচ্ছি।
এ সময় আদালত বলেন, কাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত আপনি তদারকি করবেন, খেয়াল রাখবেন। এটা আপনার প্রতি আমাদের আদেশ। জবাবে কমিশনার বলেন, অবশ্যই আদালতের আদেশ প্রতিপালন করা হবে। হাইকোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও আজিমপুর করবস্থানের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ না করায় ১ সেপ্টেম্বর এ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে তলব করা হয়।
ঢাকার আজিমপুর কবরস্থানে জাকির হোসেন নামের এক ব্যক্তির বাবার কবর ও আগের সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন রাস্তা তৈরি করেছিলো। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে জাকির হোসেন হাইকোর্টে রিট করেন। রিটের প্রেক্ষিতে আদালত সীমানা নির্ধারণের নির্দেশ দেন। কিন্তু আদালতের এ আদেশ না মানায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করেন জাকির হোসেন। পরে আদালত সীমানা প্রাচীর পুনর্নির্মাণে প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল দিতে ডিএমপি কমিশনারকে নির্দেশ দেন। ওই আদেশ ডিএমপি কমিশনার বাস্তবায়ন না করায় তাদের তলব করেন আদালত।




