ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজুল হক খান মিল্কি হত্যা মামলায় মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম টিপুকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। বুধবার তিনি ঢাকা সিএমএম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার সাদাত আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে বুধবারই মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার এবিএম সিদ্দিকুর রহমান তার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। কিন্তু বিচারক আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর ধার্য তারিখে রিমান্ডের আবেদনের ওপর শুনানির দিন ঠিক করেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মনসুর রিপুন জানান, মামলাটি পুনতদন্তে যাওয়ার পর এর আগে আবুল মোনায়েম মোহাম্মাদ আমিনুল এহসান বাবু ওরফে ডিস বাবু নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আর বুধবার জাহিদুল ইসলাম টিপু আত্মসমর্পণ করলেন।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২৬ জুন রাতে রাজধানীর গুলশানের শপার্স ওয়াল্ডের সামনে গুলিতে নিহত হন মিল্কি। ওই শপার্স ওয়াল্ডের সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা চিত্রে দেখা যায়, ওই রাতে শপার্স ওয়াল্ডের সামনে প্রাইভেটকার থেকে মিল্কি নামার পর জাহিদ সিদ্দিক তারেক ওরফে কিলার তারেক তাকে গুলি করেন। গুলি করার পর সোহেল মাহমুদ নামে এক যুবকের মোটরসাইকেলে করে তারেক পালিয়ে যায়।
মামলাটিতে গত ১৫ এপ্রিল ১২ জনকে অভিযুক্ত করে র্যাবের সহকারী পুলিশ সুপার কাজেমুর রশিদ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ওই চার্জশিটের বিরুদ্ধে গত ৯ জুন আদালতে নারাজি দাখিল করেন বাদী মিল্কির ভাই মেজর রাশিদুল হাসান খান। এরপর আদালত সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম সন্দেহভাজন আসামি জাহিদুল ইসলাম টিপু ও ওহিদুল আলম আরিফ ভুঁইয়াকে চার্জশিটভুক্ত না করায় ওই নারাজি দাখিল করা হয়।
চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন, মিল্কির ড্রাইভার মারুফ রেজা সাগরের স্ত্রী ফাহিমা ইসলাম লোপা, এসএম জাহিদ সিদ্দকী ওরফে তারেক ওরফে কিলার তারেক (ঘটনার পর দিন বন্দুক যুদ্ধে নিহত), শাখাওয়াত হোসেন চঞ্চল, জাহাঙ্গীর মণ্ডল, শহিদুল ইমলাম, আমিনুল ইসলাম হাবিব, সোহেল মাহমুদ, চুন্নু মিয়া, মো. আরিফ, ইব্রাহিম খলিলউল্লাহ, রফিকুল ইসলাম চৌধুরী ও শরিফ উদ্দিন চৌধুরী পাপ্পু।



