বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার ছয় হাজার ১৫১ জন চিকিত্সক সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব চিকিত্সকদের কমপক্ষে দুই বছর গ্রামে থেকে সাধারণ মানুষকে সেবা দেয়ার অনুরোধ জানান।
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এই যোগদান অনুষ্ঠানে চিকিত্সকদের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. নাসিম বলেন, ‘এবারই প্রথম তোমরা নিজেদের পছন্দমতো জায়গায় পোস্টিং পাচ্ছ। কোনো চেষ্টা-তদবির করতে হবে না। তোমাদের সিভি দেখে যার যেখানে বাড়ি, সেখানে বা তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় কাজ করার সুযোগ দেওয়া হবে। দুই বছর পর তোমাদের ভালো জায়গায় পোস্টিং ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেব, আমি মো. নাসিম এই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।’
রসিকতা করে নিজেকে ‘মুন্নাভাই এমবিবিএস’-এর মতো চিকিত্সক দাবি করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, চিকিত্সকদের সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব তাঁর। তিনি জানান, গ্রামাঞ্চলে যাদের কাজের রেকর্ড ভালো তাদের মূল্যায়ন করা হবে। তিনি বলেন, ‘গ্রামে এখন বিদ্যুত্ আছে, রাস্তাঘাট আছে। আকাশ দেখা যায়, বাতাস পাওয়া যায়; সবচেয়ে বড় কথা, ফরমালিনমুক্ত খাবার পাওয়া যায়। তোমাদের শিকড় গ্রামে পোঁতা। আমরা চাই, তোমরা মায়ের কোলে, বাবার স্নেহে পিতৃপুরুষের ভিটায় থেকে মানুষকে সেবা দাও। যারা এ কাজে ফেল করবে, তাদের নাম কাটা যাবে।’
গত মেয়াদে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চার হাজার ১৩৩ জন অ্যাডহক চিকিত্সক নিয়োগ দেয়। নিয়োগের কয়েক মাস পরই চিকিত্সকদের একটি বড় অংশ সুবিধাজনক জায়গায় বদলি হয়ে চলে আসেন বলে অভিযোগ ওঠে। অন্যদিকে, চিকিত্সকদের অভিযোগ, চেষ্টা-তদবির না করলে গ্রামাঞ্চলে সেবা দেওয়ার পরও চিকিত্সকেরা ভালো জায়গায় কাজের কিংবা উচ্চশিক্ষার জন্য শহরে আসতে পারেন না। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক চিকিত্সকদের উদ্দেশে বলেন, ‘ভাইয়েরা, অনেক কিছু করার আছে। সম্মানের পদ পাচ্ছেন। ক্ষমতা ও দায়িত্ব কীভাবে ব্যবহার করবেন, সেটাই দেখার বিষয়।’
স্বাস্থ্যসচিব এম এম নিয়াজউদ্দীন বলেন, ‘শ্রমিক-মেহনতি মানুষের ঘাম ঝরানো পয়সায় আমরা লেখাপড়া করি। দেশপ্রেম, কমিটমেন্ট নিয়ে কাজ করতে হবে।’ অনুষ্ঠানে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী রুহুল হক উপস্থিত ছিলেন। উচ্চশিক্ষারত চিকিত্সক, নতুন মা হয়েছেন বা হবেন, এমন চিকিত্সকদের পদায়নের ক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনা করতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. নাসিমকে তিনি অনুরোধ করেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব এম ইকবাল আর্সলান।




