ফিলিস্তিনীদের উপর ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন ও আরবলীগ কার্যকর প্রতিবাদ করছে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফিলিস্তিন সংকট নিরসনে জাতিসংঘ কোনো কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না বলেও সংস্থাটির সমালোচনা করেন তিনি। বুধবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইরানের সংসদীয় নারী প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ মন্তব্য করেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব একেএম শামীম চৌধুরী সাংবাদিকদের একথা জানান।
ফিলিস্তিন ইস্যুতে মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ইসলায়েল ফিলিস্তিনের ভূমি দখল করে রাখবে তা মেনে নেওয়া যায় না। একদিন ফিলিস্তিনীদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে বলেও দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। যারা মানবাধিকার নিয়ে কথা বলেন তারা গাজার বিষয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গাজায় হত্যাকা-ের প্রতিবাদ করে কেবিনেটে রেজুলেশন পাশের বিষয়টি ইরানী প্রতিনিধি দলকে জানান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় প্রধানমন্ত্রী গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ফিলিস্তিনী শিশু ও নারীদের হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানান। ইরানের সংসদীয় নারী প্রতিনিধি দল গাজা ইস্যুতে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসার করে।
প্রতিনিধি দলের প্রধান ফাতেমা রাহবার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন দক্ষ রাষ্ট্রপ্রধান। বাংলাদেশ গাজা ইস্যুতে আরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গাজায় মানবিক সাহায্য পৌঁছাতে মিশর সীমান্তের ‘রাফা ক্রসিং’ খুলে দিতে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান ইরানের সংসদীয় নারী প্রতিনিধি দলের প্রধান। বড় বড় দেশগুলো নীরবতা ভেঙ্গে ফিলিস্তিন সংকট নিরসনে এগিয়ে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন ফাতেমা রাহবার। সাক্ষাতে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়েও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে ইরানী প্রতিনিধি দল।
নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়নের চেষ্টা করছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের স্পিকার ও বিরোধী দলের নেতাও নারী। ফাতেমা রাহবার বলেন, ইরানের নারীরা প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের অবস্থান সুদৃঢ় করছে। ইরানে নারীরা দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের নারীর ক্ষমতায়নের যে অবস্থা ইরান সেটা অনুসরণ করবে বলে জানান ফাতেমা।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ইরানি প্রেসিডেন্ট হাসান রোহানির শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন প্রতিনিধি দলের প্রধান ফাতেমা রাহবার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও হাসান রোহানিকে শুভেচ্ছা জানান। ইরান ও বাংলাদেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের সফর দু’দেশের মধ্যে সর্ম্পক আরো জোরদার করবে বলে আশা প্রকাশ করেন ফাতেমা রাহবার। আগামীতে বাংলাদেশের সংসদের একটি প্রতিনিধি দল ইরান সফর করবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ইরানের সঙ্গে আমাদের ঐতিহাসিক ভাতৃপ্রতিম সর্ম্পক রয়েছে। এ সর্ম্পক উত্তর উত্তর বৃদ্ধি পাবে।
সাক্ষাৎকালে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশে ইরান দূতাবাসের শার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স রেজা আলী, প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন নায়েরাহ আকাভান বিতারাফ, শাহলা মিরগালু বাইয়্যেত, সাকিনা ওমরানি। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবদুস সোবহান শিকদার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব একেএম শামীম চৌধুরী প্রমুখ।




